নিট কাণ্ড নিয়ে বিরাট চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের! ২৪ ঘণ্টার ম্যারাথন বিতর্কে মুখোমুখি হতে প্রস্তুত কেন্দ্র

দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলা ‘নিট’ (NEET) পেপার লিক এবং ছাত্র বিক্ষোভের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যুতে এবার সংসদের অন্দরে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক বিস্ফোরক ঘোষণায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই গোটা বিষয় নিয়ে সংসদের উভয় কক্ষে বিস্তারিত এবং খোলামেলা আলোচনা করতে সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত। বিরোধীদের সমস্ত যুক্তিসঙ্গত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে তিনি নিজে ২৪ ঘণ্টা একাসনে বসে উত্তর দিতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন। এদিনের এই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণায় সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।
এদিন সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অমিত শাহ। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজকাল দেশের রাজনীতি ও সংসদীয় জীবনে ‘নিখোঁজ’, ‘পলাতক’ কিংবা ‘ফেরার’-এর মতো শব্দগুলো খুব সহজেই ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানান যে, সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই তিনি নিয়মিত সংসদে আসছেন এবং নিজের দপ্তরে উপস্থিত থাকছেন। অথচ বিরোধী দলগুলি সচেতনভাবে দুই কক্ষেই সংসদ সচল রাখতে দিচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি আলোচনার পরিবেশই তৈরি না করা হয়, তবে শুধু শুধু সেখানে গিয়ে সময় নষ্ট করে লাভ কী? এর আগে সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, নিট সংক্রান্ত ছাত্র আন্দোলনের প্রতিটি খুঁটিনাটি দিক নিয়ে আলোচনা করতে সরকার সম্পূর্ণ আগ্রহী।
অমিত শাহ আরও বলেন যে, আগে বিরোধী দলগুলিই এই বিষয়ে আলোচনার জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু এখন যখন সরকার তাতে সম্মতি দিয়েছে, তখন তাঁরা নানান অজুহাতে আলোচনা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে জনগণের সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে তিনি বিরোধীদের উদ্দেশ্যে একটি সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। শাহ জানান, বিরোধীরা যদি সত্যিই আন্তরিক হন, তবে তাঁরা যেন আজ দুপুর দুটোর মধ্যে স্পিকারকে একটি লিখিত চিঠি দিয়ে জানান। এরপর আজ দুপুর তিনটে থেকেই সংসদে এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বিতর্ক শুরু হতে পারে।
চলতি সংসদীয় অধিবেশনের অচলাবস্থা চিরতরে কাটাতে এবং বিরোধীদের সমস্ত মুখ বন্ধ করতে অমিত শাহ এক অভাবনীয় প্রস্তাব পেশ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, আজ দুপুর তিনটে থেকে শুরু করে আগামী কাল দুপুর তিনটে পর্যন্ত—টাকা টানা ২৪ ঘণ্টা ধরে এই ম্যারাথন আলোচনা চলতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি নিজে একটানা হাউসে উপস্থিত থাকবেন, প্রতিটি দলের বক্তব্য অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনবেন এবং সমস্ত প্রশ্নের পুঙ্খানুপুঙ্খ জবাব দেবেন। সরকারের লুকানোর মতো কিছু নেই বলে দাবি করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি-এনডিএ সরকার দেশের স্বার্থে যেকোনো বিষয়ে আলোচনা করতে বিন্দুমাত্র পিছপা হয় না। শুধু শর্ত একটাই—বিরোধী পক্ষ যেন সংসদ কক্ষ সচল থাকতে দেয় এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিতর্কে অংশ নেয়।
সংসদীয় নিয়মের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন যে, সংসদে বিতর্কের নির্দিষ্ট এবং সুশৃঙ্খল নিয়মকানুন থাকে। কেবল গায়ের জোরে কেউ দাবি করতে পারে না যে তাঁকে নির্দিষ্ট কোনো ফর্ম্যাটে বিশেষ বিবৃতি দিতে হবে। বিশাল এই জাতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার সুনির্দিষ্ট সংসদীয় পথ রয়েছে। স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে আগামী কাল দুপুর তিনটে পর্যন্ত এই আলোচনার ধারা বজায় রাখতে এবং প্রয়োজনে সাধারণ প্রশ্নোত্তর পর্বও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। এখন বল সম্পূর্ণভাবে বিরোধী শিবিরের কোর্টে ঠেলে দিয়ে শাহ মন্তব্য করেছেন যে, দেশের সাধারণ মানুষের সামনে সব কিছু পরিষ্কার করার জন্য সরকার ২৪ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। এখন বিরোধীদেরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা আদতে গঠনমূলক আলোচনা চায়, নাকি কেবল সংসদের অন্দরে হট্টগোল ও অচলাবস্থা জিইয়ে রাখতে চায়।