স্পিকারের দপ্তরে অভিষেক! দলত্যাগী ২০ সাংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপের জল্পনা তুঙ্গে

সংসদের অন্দরে রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে এবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হলো সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দল। বুধবার রাজধানী দিল্লিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সংসদীয় দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলীয় সাংসদদের একটি প্রতিনিধিদল স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মূলত দুটি অত্যন্ত জোরালো ও স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, দলত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাওয়া ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন এবং সংসদের অন্দরে তৃণমূল সাংসদদের বসার আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে স্পিকারের কাছে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। আগামী সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে স্পিকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে খবর।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ২৭ জুলাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই তৃণমূল সাংসদরা স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেই বৈঠকে প্রায় কুড়ি মিনিট ধরে আলোচনা চলেছিল। মূলত জোড়া দাবি নিয়েই সেই সাক্ষাতের সূত্রপাত হয়েছিল। প্রথমত, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর জারি হওয়া সাসপেনশন বা বরখাস্তের আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, দলবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থেকে দলত্যাগ করে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের সংসদ সদস্য পদ অবিলম্বে খারিজ করার জন্য স্পিকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংসদদের বসার আসন বিন্যাস পরিবর্তন করে পূর্বের মতো সম্মানজনক অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও ওই বৈঠকে জোরালোভাবে তুলে ধরেছিলেন অভিষেক।

বৈঠক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত ১৮ জুলাই স্পিকারের অফিস থেকে যে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল, তাতেও ওই দলত্যাগী ২০ জন সাংসদকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই যুক্ত বলে দেখানো হয়েছিল। এই প্রসঙ্গটি তুলে ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তি দেখান যে, যেহেতু খাতায়কলমে এবং আইনিভাবে ওই সাংসদরা এখনও তৃণমূলেরই প্রতিনিধি হিসেবে সংসদীয় দপ্তরে পরিচিত, তাই তাঁদের আলাদা বা বিশেষ পৃথক আসন বরাদ্দ করা দলের অন্যান্য সংসদ সদস্য এবং স্বয়ং তাঁর কাছে অত্যন্ত অপমানজনক। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা অবিলম্বে বাতিল করে তাঁদের পুরনো আসনে বহাল করার জন্য স্পিকারের কাছে জোরদার দাবি জানান তিনি।

পাশাপাশি, দলত্যাগ বিরোধী আইন নিয়ে আরও কঠোর অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন অভিষেক। তাঁর স্পষ্ট দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীকে জয়লাভ করার পর যাঁরা পরবর্তীতে দলবদল করেছেন, সেই ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ১৯৮৫ সালের ঐতিহাসিক দলত্যাগ-বিরোধী আইনের লোকসভা সংক্রান্ত ধারার ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই অভিযুক্ত সাংসদদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্পিকারকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত ১৯ জুন ঠিক এই একই দাবি নিয়ে একটি লিখিত পিটিশন বা আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি কিংবা কোনো শুনানির দিনও নির্দিষ্ট করা হয়নি। সোমবারের চিঠিতে এই অকারণে চলা প্রশাসনিক বিলম্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলত্যাগ সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে ওই ২০ জন সাংসদের বসার আসন আকস্মিকভাবে পরিবর্তন করা হলো? রাজনৈতিক মহলের মতে, এই তীব্র চাপ ও আইনি যুক্তির জেরে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরণের আলোড়ন সৃষ্টি হতে পারে।