উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রেল। এবার সরাসরি অমৃতসর থেকে নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে নিয়মিতভাবে চালু হয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত ‘অমৃত ভারত এক্সপ্রেস’ ট্রেন পরিষেবা। এই নতুন ট্রেনের ফলে পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকার লাখ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। বিশেষ করে পর্যটন ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এই ট্রেন এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রেল সূত্রের খবর, অমৃতসর স্টেশন থেকে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন ট্রেনের শুভ সূচনা করেন রেল ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের মাননীয় কেন্দ্রীয় রাজ্য মন্ত্রী শ্রী রভনীত সিং। রেলওয়ে বোর্ড জানিয়েছে, ট্রেন নং ১৪৬৬৪/১৪৬৬৩ ( canবি-অমৃতসর–নিউ জলপাইগুড়ি–অমৃতসর) অমৃত ভারত এক্সপ্রেসটি সম্পূর্ণ সাপ্তাহিক ভিত্তিতে চলাচল করবে। রেলের রুটিন অনুযায়ী, প্রতি বৃহস্পতিবার অমৃতসর থেকে এবং প্রতি শনিবার নিউ জলপাইগুড়ি থেকে এই ট্রেনটি নিজের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।
যাত্রীদের দীর্ঘদিনের চাহিদার কথা মাথায় রেখে মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই এই পরিষেবার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে অমৃতসর থেকে রওনা দেবে ডাউন ট্রেনটি। এরপর বিভিন্ন রাজ্য পার করে শনিবার ভোর ৪:১৫ মিনিটে সেটি এসে পৌঁছবে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে। একইভাবে, ১৬ মে থেকে আপ ট্রেনটি প্রতি শনিবার সকাল ৮:০০ টায় নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ছাড়বে এবং সোমবার ভোর ২:২০ মিনিটে অমৃতসরে গিয়ে পৌঁছবে।
এই ট্রেনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর রুট এবং স্টপেজ। নবনির্মিত আরারিয়া–গলগলিয়া রুটের ওপর দিয়ে যাওয়ার কারণে উত্তরবঙ্গ ও বিহারের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ সরাসরি রেল যোগাযোগের সুবিধা পাবেন। যাত্রাপথে ট্রেনটি উভয় দিকেই শিলিগুড়ি জংশন, বাগডোগরা, আরারিয়া, রাঘোপুর, সাকরি জংশন, রক্সৌল জংশন, নরকাটিয়াগঞ্জ জংশন, গোরখপুর, বারহনি, গোন্ডা জংশন, সীতাপুর জংশন, বরেলি, সাহারানপুর জংশন এবং লুধিয়ানা জংশনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব স্টেশনে স্টপেজ দেবে।
মোট ২২টি অত্যাধুনিক এলএইচবি (LHB) কোচ বিশিষ্ট এই অমৃত ভারত এক্সপ্রেস সাধারণ ও মধ্যবিত্ত যাত্রীদের জন্য এক সেরা উপহার। কম খরচে বিলাসবহুল এবং ঝাঁকুনিহীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেবে এই পুশ-পুল প্রযুক্তির ট্রেনটি। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, এই নতুন ট্রেন চালুর ফলে ভারতের চার গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পরিকাঠামোও আরও উন্নত হবে।





