পাঞ্জাবে প্রশ্নফাঁস নিয়ে ফুঁসছে রাজনীতি! শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজ্য, এবার কি বড় আন্দোলনে নামছে সিজিপি?

পাঞ্জাবে ফার্মাসি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা সহ একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক চাপানউতোর সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলির জোরালো দাবি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের হুঙ্কারের মাঝেই এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিতে চলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন যে খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে দলের পরবর্তী রাজনৈতিক রণকৌশল ও আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সম্প্রতি পাঞ্জাবে ফার্মাসি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যদিও রাজ্যের আম আদমি পার্টি (AAP) সরকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে যে, প্রশ্ন ফাঁস হয়নি, বরং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরীক্ষার হল থেকে বাইরে প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বিরোধী দলগুলির ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। রবিবার বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু সরাসরি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হরজোট সিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেছেন। লুধিয়ানায় এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশ্নপত্র শুধু ফাঁস হওয়াই নয়, দেদার বিক্রিও করা হয়েছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এর আগে শিরোমণি অকালি দল (SAD)-ও এই একই ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিল। তাদের দাবি, পাঞ্জাব টেট (PTET), দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা এবং ফার্মাসি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা সহ প্রায় ছয়টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। SAD-এর প্রবীণ নেতা দলজিৎ সিং চিমা সরকারের কঠোর আইনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন যে, শুধুমাত্র শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার আগেই তা রোধ করার জন্য সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী এসওপি (SOP) এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে রাজ্যগুলির নিজস্ব প্রবেশিকা পরীক্ষার ক্ষমতা থাকা জরুরি।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি উড়িয়ে দিয়ে বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি রাজনৈতিক ময়দানে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “গতকালই আমাদের একটি প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শেষ হয়েছে। আমাদের কিছুটা সময় দিন, আমরা খুব শীঘ্রই পাঞ্জাবের এই পরিস্থিতি নিয়ে পরিকল্পনা ও আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করছি।” সব মিলিয়ে প্রশ্নফাঁস বিতর্ক ঘিরে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক পারদ এখন চড়রম পর্যায়ে পৌঁছেছে।