‘পাচারকারী’ সন্দেহে বিএসএফ জওয়ানকে আটক পুলিশের! ভুল বোঝাবুঝিতে ১৭০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারে চরম উত্তেজনা

কাশির সিরাপ (ফেনসিডিল) পাচার রুখতে গিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়াল নদীয়ার চাপড়া থানা এলাকার সীমানগরে। পাচার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে মঙ্গলবার পুলিশ ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (BSF) জওয়ানদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ঘটনায় এক পুলিশ আধিকারিকসহ দু’জন জখম হন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, করিমপুর দিক থেকে একটি গাড়িতে করে কাশির সিরাপ পাচার হচ্ছে, এমন গোপন খবর পেয়ে চাপড়া থানার পুলিশ সীমানগর এলাকায় ঘাঁটি গাড়ে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশ গাড়ি থেকে পাচার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা শুরু করে।
ঠিক সেই সময় সীমানগর বিএসএফ ক্যাম্পের কয়েকজন জওয়ান এসে পুলিশকে বাধা দেন এবং বাজেয়াপ্ত সিরাপ নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। প্রথম দিকে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। পুলিশ সাদা পোশাকে থাকা এক বিএসএফ জওয়ানকে ‘পাচারকারী’ সন্দেহে আটক করে এবং বাক্সগুলি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
উত্তেজনা বাড়ে এবং বচসা হাতাহাতিতে গড়িয়ে যায়। অভিযোগ, এক পর্যায়ে রড দিয়ে এক পুলিশ আধিকারিককে মারধর করা হয়। এতে একজন এএসআই, একজন কনস্টেবল, দুজন হোম গার্ড এবং একজন সিভিক ভলান্টিয়ারসহ মোট কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন।
খবর পেয়ে চাপড়ার ডিএসপি শিল্পী পাল-সহ উভয় বাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে এবং পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপরই আটক বিএসএফ জওয়ানকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে যৌথ অভিযানে প্রায় ১৭০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। আহত পুলিশকর্মীদের চাপড়া গ্রামীণ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।