পাকিস্তান সীমান্তে সাফল্য, জেনেনিন কেন সাধারণ বেড়ার চেয়ে ‘স্মার্ট ফেন্সিং’ অপরিহার্য?

ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার ইতিহাসে কাঁটাতারের বেড়া একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর উঁচু ও মজবুত কাঁটাতারের বেড়া বসানোর পর থেকে অনুপ্রবেশ এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ সীমান্তের ক্ষেত্রে ভূ-প্রকৃতিগত চ্যালেঞ্জ কিছুটা ভিন্ন। তাই বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, প্রথাগত বেড়ার পাশাপাশি এখন প্রয়োজন ‘স্মার্ট ফেন্সিং’।
পাকিস্তান সীমান্তের অভিজ্ঞতা: ২০১০ সালের দিকে পাকিস্তান সীমান্তে বিএসএফ (BSF)-এর তত্ত্বাবধানে কাঁটাতারের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ এই ৩,৩২৩ কিলোমিটার সীমান্তে এখন টহলদারির পাশাপাশি আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় অনুপ্রবেশের ঘটনা প্রায় নগণ্য হয়ে এসেছে। এই মডেলটিই এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ সীমান্তে চ্যালেঞ্জ কোথায়? ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ভৌগোলিক গঠন অত্যন্ত জটিল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করে অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম—এই বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে নদী, ঝরনা ও ঘন জঙ্গল। ফলে প্রথাগত কাঁটাতার বসানো সব ক্ষেত্রে সহজসাধ্য ও ব্যয়বহুল নয়। এছাড়া সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত মিল থাকার কারণে এখানে চোরাচালান, গরু পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা বিএসএফ-এর কাছে প্রতিনিয়ত এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।
কেন অপরিহার্য ‘স্মার্ট ফেন্সিং’? সাধারণ কাঁটাতারের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতেই ভারত সরকার ‘স্মার্ট ফেন্সিং’ বা আধুনিক ডিজিটাল বেষ্টনী ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। এই প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
এআই (AI) ও সেন্সর: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের গতিবিধি শনাক্তকরণ।
রিয়েল-টাইম অ্যালার্ট: কোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে সরাসরি কন্ট্রোল রুমে সংকেত পৌঁছে যাওয়া।
মাল্টি-লেয়ার নজরদারি: সিসিটিভি ক্যামেরা, ইনফ্রারেড ডিটেক্টর এবং ড্রোন নজরদারির সমন্বয়।
রাতের সুরক্ষা: অন্ধকারের মধ্যেও নির্ভুলভাবে অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করার ক্ষমতা।
প্রযুক্তিই আগামীর নিরাপত্তা: পরীক্ষামূলকভাবে কিছু এলাকায় স্মার্ট বেড়া স্থাপন করে ইতিমধ্যে ইতিবাচক ফল মিলেছে। সরকার এখন পুরো সীমান্ত জুড়েই এই আধুনিক ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। এটি কেবল সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে না, বরং প্রতিকূল পরিবেশে সেনাদের জীবনের ঝুঁকিও অনেকটা কমিয়ে আনবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথাগত কাঁটাতারের সঙ্গে স্মার্ট প্রযুক্তির মেলবন্ধনই পারে ভারতের সীমান্তকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করে তুলতে।