৪৪০ কোটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট জব্দ, বিমানে কোটি টাকার খরচ—তৃণমূলের অন্দরে কি চূড়ান্ত ফাটল?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখন এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে—তা হলো দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর বিমান সফর ও দলের বিপুল নির্বাচনী ব্যয়।

সম্প্রতি দলটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, গত চার বছরে চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়া বাবদ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই বিপুল অঙ্কের টাকা খরচের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

কী জানা যাচ্ছে খরচের হিসাবে? বিভিন্ন অডিট রিপোর্ট এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সাল থেকে নির্বাচনী প্রচার ও দলীয় কাজে বিমান ভাড়ার খাতে তৃণমূলের খরচ আকাশচুম্বী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চার বছরে বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, যার সিংহভাগই ব্যয় হয়েছে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সফরসূচি ও নির্বাচনী প্রচারে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও দলের মোট নির্বাচনী খরচের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ এই বিমান ভাড়ার পেছনেই ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কেন এই বিতর্ক? ১. দলের অন্দরেই প্রশ্ন: তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষসহ দলের একাংশ প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, দলের তহবিলের টাকা ব্যবহার করে এই বিলাসবহুল চার্টার্ড বিমান সফর কতটা যুক্তিযুক্ত। কুণাল ঘোষের স্পষ্ট মন্তব্য, “দল যদি এই খরচ বহন করে থাকে, তবে তা সমর্থনযোগ্য নয়।” ২. অ্যাকাউন্ট জব্দ: এই বিতর্কের মধ্যেই আবার যোগ হয়েছে দলের তহবিল সংক্রান্ত সমস্যা। দল পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্প্রতি জব্দ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা গচ্ছিত ছিল। বিদ্রোহী বিধায়কদের অভিযোগ, এই টাকার উৎস কী এবং সেখানে কোনো বেআইনি লেনদেন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। ৩. বিরোধীদের কটাক্ষ: বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষসহ বিরোধী শিবির এই ব্যয়ের ধরন নিয়ে নিয়মিত আক্রমণ শানাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, আকাশপথে এই বিপুল খরচে তৃণমূল চাইলে একটি আস্ত বিমানই কিনে ফেলতে পারত।

এখন কী হতে পারে? তৃণমূলের পক্ষ থেকে যদিও এই অভিযোগগুলো রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করা হয়েছে এবং তারা আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে, দলের অভ্যন্তরে তহবিল নিয়ন্ত্রণ এবং অভিষেকের বিমান ব্যবহারের বিষয়টিকে ঘিরে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা আপাতত দলের নেতৃত্বের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতির ওপর নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।