পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে এবার ভারতীয় বায়ুসেনার এক প্রাক্তন আধিকারিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অসম এবং অরুণাচলপ্রদেশকে নিশানা করে ভারতের পূর্ব সীমান্তে প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য পাকিস্তানি চরদের একটি বিরাট নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল।
তেজপুর থেকে গ্রেফতার প্রাক্তন জুনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার
আসামের তেজপুরের পাটিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রাক্তন জুনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার কুলেন্দ্র শর্মাকে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, তিনি বেশ কিছু দিন ধরে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির কাছে স্পর্শকাতর তথ্য পাচার করছিলেন। তাঁর উপর নজরদারি চলার পর শেষ পর্যন্ত শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশি তথ্য: পুলিশ সূত্রে খবর, কুলেন্দ্রর মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ থেকে সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেছে এবং কিছু তথ্য আগেভাগেই মুছে দেওয়া হয়েছে।
প্রমাণ: অসমের শোণিতপুরের ডেপুটি পুলিশ সুপার হরিচরণ ভূমিজ জানিয়েছেন, কুলেন্দ্রর পাকিস্তানি সংযোগের সপক্ষে দৃঢ় প্রমাণ মিলেছে।
জানা গিয়েছে, অবসরগ্রহণের আগে কুলেন্দ্র তেজপুর বায়ুসেনা ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিলেন। এই ঘাঁটিতে বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ সাজ-সরঞ্জাম, এমনকি একটি সুখোই ৩০ স্কোয়াড্রনও রয়েছে। ২০০২ সালে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে তিনি কিছু দিন তেজপুর ইউনিভার্সিটিতেও কাজ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জাতীয় সুরক্ষার জন্য বিপজ্জনক গতিবিধি
যে তেজপুর থেকে কুলেন্দ্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কৌশলগতভাবে সেই স্থানটি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ভারতীয় সেনার চতুর্থ কর্পসের সদর দফতর (গজরাজ কর্পস নামে পরিচিত) রয়েছে, যা ইস্টার্ন কম্যান্ডের অধীনে অসম এবং অরুণাচল সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। ফলে কুলেন্দ্রর গতিবিধি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক ছিল বলে অভিযোগ।
অন্য এক মহিলার বিরুদ্ধেও তদন্ত
তবে শুধু কুলেন্দ্রই নন, এই পাকিস্তানি চর নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ সন্দেহে অসমে আরও এক মহিলা জ্যোতিকা কলিটার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। শোণিতপুরের বাসিন্দা জ্যোতিকা কলিটা এবং আরও চারজনকে গত ৫ ডিসেম্বর গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে, জ্যোতিকার মোট ১৭টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযোগ পাওয়া গিয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে বিদেশে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।





