পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ফোন কেড়ে নিল পিসিবি? কড়া পদক্ষেপে চাঞ্চল্য

সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না পাকিস্তান ক্রিকেটের। একদিকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে একের পর এক লজ্জার হার। অন্যদিকে, মহিলাদের এশিয়া কাপে শনিবার ভারতের কাছে কার্যত দুরমুশ হয়েছে দল। টি২০ এশিয়া কাপের সেই ম্যাচে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ৫৫ রান, আর ফাতেমা সানার দলকে অনায়াসেই ৭ উইকেটে হারিয়ে দেয় ভারতীয় দল। মাঠের পারফরম্যান্সের এই চরম বিপর্যয়ের মধ্যেই এবার মাঠের বাইরে বিস্ফোরক এক রিপোর্ট ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা। সূত্রের খবর, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পুরুষ দলের তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ শুরুর আগেই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মোবাইল ফোন নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

ফিক্সিং আতঙ্ক নাকি অন্য কোনো রহস্য?

৩৬৫ নিউজ-এর একটি প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচ মাঠে নামার আগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ফোনগুলি পিসিবির নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের কাছে জমা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, রিপোর্ট জানাচ্ছে যে সিরিজের ফাইনাল টেস্ট ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ফোনগুলি বোর্ডের হেফাজতেই থাকবে। যদিও কোন কোন নির্দিষ্ট ক্রিকেটারের ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বা দলের সবার ফোনই কেড়ে নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। তবে ঠিক কী কারণে পিসিবিকে এমন কঠোর পদক্ষেপ করতে হলো, তা নিয়ে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা দেয়নি বোর্ড।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন ড্রেসিংরুম বা রেস্ট্রিকটেড এরিয়া-র মতো নির্দিষ্ট এলাকাগুলিতে ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের মোবাইল বা কোনো সংযোগ রক্ষাকারী ডিভাইস সঙ্গে রাখার অনুমতি থাকে না। সেই নিয়ম মেনেই সাধারণত মাঠে নামার আগে ফোন জমা দিতে হয়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। পাকিস্তানের পুরুষ ক্রিকেট দলে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত চলছে কি না, কিংবা দলের অন্দরে দুর্নীতি বা ফিক্সিংয়ের মতো কোনো গভীর খোঁজতল্লাশি শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আগেও হয়েছে ছাঁটাইয়ের খাঁড়া

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম দুটি টেস্টে দল শোচনীয়ভাবে পরাজিত হতেই নড়েচড়ে বসেছিল পিসিবি। চেয়ারম্যান মহসিন নকভির নির্দেশে দল থেকে একলাফে ৭ জন ক্রিকেটারকে সরাসরি ছেঁটে ফেলা হয়েছিল। এমনকি হেড কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকেও মাঝপথেই দেশে ডেকে পাঠানো হয়। সেই ব্যাপক ছাঁটাই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ক্রিকেটারদের ফোন বাজেয়াপ্ত করার এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে আসায় গোটা ক্রিকেট বিশ্বে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এখন এই বিষয়ে পিসিবির অফিসিয়াল বিবৃতির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা ক্রীড়াদুনিয়া।