নকল মদের রমরমা নিয়ে আগেই ছিল সতর্কবার্তা! ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় উঠছে প্রশ্ন

মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলা থেকে একটি বড় এবং মর্মান্তিক খবর সামনে এসেছে। সাগর জেলার বান্দা ব্লকের নওরাজ এবং গুগরা খুর্দ গ্রামে বিষমদ পান করে কমপক্ষে নয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। শনিবার ও রবিবারের মধ্যবর্তী রাতে এই ঘটনাটি ঘটার পর থেকেই গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একসঙ্গে এতগুলো মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। খবর পাওয়া মাত্রই সাগর জেলার কমিশনার, আইজি, কালেক্টর এবং এসপি নিজে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আধিকারিকরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি থাকা অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রের সার্বিক বন্দোবস্ত খতিয়ে দেখেন।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও সিল করা দোকান

এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন অবৈধ মদের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। সতর্কতামূলক এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এলাকার মোট ছয়টি মদের দোকান অবিলম্বে সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং সমস্ত মদের নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে। জানানো হয়েছে, মদ্যপানের পর যদি কারও মধ্যে বমি ভাব, তীব্র মাথাব্যথা বা জ্বরের মতো কোনো উপসর্গ দেখা যায়, তবে সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত।

এই বিষয়ে জেলা কালেক্টর প্রতিভা পাল জানিয়েছেন, বিষাক্ত মদ পানের ফলেই মানুষ মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং দুর্ভাগ্যবশত তাঁদের মধ্যে কয়েকজন মারাও গেছেন। বাকিদের সিভিল হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা ও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়াও, চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামদুটিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্ক্রিনিংয়ের কাজ শুরু করেছে। গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি কেউ সামান্যতম অসুস্থতা অনুভব করেন বা ওই সময় কোনো ধরনের অ্যালকোহল পান করে থাকেন, তবে তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানুষ যদি সিভিল হাসপাতালেও আসতে না চান, তবুও স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি গিয়ে তাঁদের পরীক্ষা করবেন। পুরো বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আবগারি বিভাগের চরম গাফিলতি ও ক্ষোভ

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তিরা মূলত বান্দা এলাকার বারাজ গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পরেই সাগর এসপি অনুরাগ সুজানিয়া সহ উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছেন। ঠিক কী কারণে এই মৃত্যু এবং বিষাক্ত মদের উৎস কোথায়, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে স্থানীয় আবগারি দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে যে, সম্প্রতি শহরেরই এক লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের ঠিকাদার ‘বোম্বে হুইস্কি’ নামে বাজারে দেদার বিকোচ্ছিল নকল মদ, সে বিষয়ে আবগারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বিভাগীয় কর্তারা সেই গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের বিরুদ্ধে সময়মতো কোনো পদক্ষেপই করেননি।

সবথেকে বড় বিষয় হলো, এই ভয়ংকর দুর্ঘটনার মাত্র চার দিন আগেই আবগারি দপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে স্থানীয় লাইসেন্সপ্রাপ্ত ঠিকাদাররা এলাকায় অবাধে চলা অবৈধ মদের ব্যবসা এবং ভেজাল মদের কারবার নিয়ে দপ্তরের আধিকারিকদের সামনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। ফলস্বরূপ, প্রশাসনের এই চরম অবহেলার খেসারত দিতে হলো কমপক্ষে নয়জন নিরীহ মানুষকে। বর্তমানে পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের তদন্তেই স্পষ্ট হবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আসল অপরাধী কারা।