নিউ ফরাক্কায় ট্র্যাক সারাইয়ের পর স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল, দার্জিলিং মেল-পদাতিক কি চলবে?

নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতির কাজ শনিবার রাতেই সফলভাবে শেষ হয়েছিল। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে মালগাড়ি চালিয়ে লাইন পুরোপুরি পরীক্ষা করা হয়। সমস্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সন্তোষজনক আসার পর রবিবার সকাল থেকেই ওই লাইনে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। এদিন সকালেই ওই লাইন দিয়ে সফলভাবে চালানো হয়েছে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিউ ফরাক্কা স্টেশন থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে আপ লাইনে হঠাৎই ভয়াবহ ধস নামে। প্রায় ২০ মিটার অংশের রেললাইনের তলা থেকে মাটি প্রায় চার ফুট পর্যন্ত বসে যায়। প্রাথমিক স্তরে পাথরকুচি ফেলে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করা হলেও কাজের কাজ হয়নি, উল্টে ধসের গভীরতা ও ব্যাপ্তি ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং লম্বায় তা ৮০ মিটার ছাড়িয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে সেই বিশাল গর্ত ভরাট করতে রেল কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘ সময় লড়াই চালাতে হয়। শেষ পর্যন্ত সমস্ত বাধা পেরিয়ে শনিবার রাতের দিকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় লাইন মেরামতির কাজ সম্পন্ন করে রেল। প্রথমে ইঞ্জিন এবং পরে মালগাড়ি চালিয়ে লাইন সম্পূর্ণ নিরাপদ কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।
রবিবার সকালে প্রথমে কলকাতার দিক থেকে আসা একটি মালগাড়ি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ নিউ ফরাক্কার সেই আপ লাইন দিয়ে সফলভাবে চালানো হয়, যা পরে বিহারের পূর্ণিয়ার দিকে রওনা দেয়। এর পরেই একে একে অন্যান্য ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয় এবং বন্দে ভারত এক্সপ্রেস পারাপার করে।
রবিবার কি নির্ধারিত পথেই চলবে সমস্ত ট্রেন?
গত কয়েকদিন ধরে লাইন মেরামতির কাজের জেরে শিয়ালদহ থেকে রওনা দেওয়া উত্তরবঙ্গমুখী কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস এবং গৌড় এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলিকে নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে ঘুরপথে কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখা দিয়ে চালানো হচ্ছিল। এর ফলে যাত্রীদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।
তবে রবিবার থেকেই সমস্ত ট্রেন নির্ধারিত রুট ও সময় অনুযায়ীই চলাচল করবে বলে নিশ্চিত করেছে রেল। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি ‘এই সময় অনলাইন’-কে জানিয়েছেন, রাতের সমস্ত ট্রেনই এ বার থেকে সময়মতো চলাচল করবে। দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস এবং কাঞ্চনকন্যা—সব কটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনই এখন থেকে আবার নির্দিষ্ট ওই আপ লাইন দিয়েই নিরাপদে পাস করবে। ছুটির দিনে এই ঘোষণায় উত্তরবঙ্গগামী নিত্যযাত্রী ও পর্যটকদের স্বস্তি অনেকটাই দ্বিগুণ হয়েছে।