পাকিস্তানকে চরম শিক্ষা! কাবুলের বিমান হামলার প্রতিশোধে ৫৮ জন সেনাকে হত্যার দাবি তালিবানের, সীমান্তে তীব্র সামরিক সংঘর্ষ!

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। রবিবার আফগানিস্তান দাবি করেছে, তাদের সেনাবাহিনী এক রাতভর অভিযানে ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে এবং সীমান্তের ২৫টি সেনা পোস্ট দখল করে নিয়েছে। কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তালিবানের। যদিও পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত সেনা নিহতের এই দাবি নিশ্চিত করেনি।

তালিবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, আফগান ভূখণ্ড এবং আকাশসীমা পাকিস্তানের “বারবার লঙ্ঘনের” জবাবে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আফগানিস্তানের সমস্ত সরকারি এবং প্রকৃত সীমান্তে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অবৈধ কার্যকলাপ অনেকাংশে বন্ধ করা হয়েছে।”

সংঘর্ষের সূত্রপাত ও কারণ:
৯-১০ অক্টোবরের রাতে পাকিস্তান কাবুলে বিমান হামলা চালিয়েছিল। এর পরই তালিবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, “তাদের বাহিনী সীমান্তে পাল্টা এবং সফল অভিযান চালিয়েছে।” যদি প্রতিপক্ষ আবার আফগানিস্তানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, তবে কড়া জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

উত্তেজনার কারণ: পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছে যে আফগানিস্তান তাদের দেশে নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালায়। কাবুল অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে।

পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া: আফগানিস্তানের এই দাবির আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছিলেন, সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের উস্কানির যোগ্য জবাব দিয়েছে এবং তাদের অনেক চৌকি ধ্বংস করে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে।

বন্ধ বাণিজ্য পথ:
সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষের কারণে রবিবার দুই দেশের মধ্যে থাকা দুটি প্রধান বর্ডার ক্রসিং— তোরখম এবং চমন—বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। পাকিস্তান থেকে ফেরা আফগান শরণার্থীসহ সকল মানুষকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

চমনে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের দক্ষিণ কান্দাহার প্রদেশের স্পিন বোল্ডকের উপর জেট বিমানের শব্দ শোনা গেছে এবং সেখানে একটি বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

দীর্ঘ ২৬১১ কিলোমিটারের এই সীমান্ত, যা ডুরান্ড লাইন নামে পরিচিত, তা ঔপনিবেশিক যুগের হওয়ার কারণে আফগানিস্তান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব এবং কাতারসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলো দুই দেশকেই সংযম প্রদর্শনের এবং আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।