পথকুকুর বা রাস্তার কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও তাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ (Animal Birth Control) সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়া—এই তিন বিচারপতির বেঞ্চ কড়া অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছে, রাজ্যগুলির চূড়ান্ত উদাসীনতার কারণেই দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পথকুকুরের লাগাতার হামলার খবর আন্তর্জাতিক মহলেও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।
সব রাজ্যের মুখ্যসচিবকে তলব, না এলে জরিমানা
সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই মামলা গ্রহণ করেছিল। আদালতের নির্দেশ ছিল, প্রাণী জন্মনিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী সব রাজ্যকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কিন্তু আদালত এদিন জানতে পারে, বেশিরভাগ রাজ্যই সেই নির্দেশ মানেনি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ, তেলঙ্গানা এবং দিল্লি পুরনিগমই এই বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
- বাকি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি কোনও রিপোর্টই জমা দেয়নি।
এরপরই কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বিক্রম নাথ প্রশ্ন তোলেন, “সবাই এখনও রিপোর্ট দিল না কেন? মুখ্যসচিব যেন কারণ ব্যাখ্যা করেন। না হলে জরিমানা লাগু হবে, বলপূর্বক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সব রাজ্যকেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। আপনারা সংবাদপত্র পড়েন না? সোশ্যাল মিডিয়া দেখেন না? সবাই সব জানে, তবুও কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি!”
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর (সোমবার) সকাল সাড়ে দশটায় সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের আদালতে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। আদালত জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
আগের নির্দেশিকায় কী বলেছিল আদালত?
দেশজুড়ে রাস্তার কুকুরের সমস্যা বড় আকার নিয়েছে। অনেক জায়গায় শিশুদের উপর কুকুরের হামলার খবর আসছে। এই পরিস্থিতিতে, আদালত এর আগে Animal Birth Control আইন মেনে চলতে সব রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল।
পূর্ববর্তী নির্দেশ অনুযায়ী:
- নির্বীজকরণ ও টিকা দেওয়ার পর পথকুকুরদের তাদের পুরনো এলাকাতেই ফিরিয়ে দিতে হবে।
- শুধুমাত্র সংক্রমিত বা পাগলা কুকুরদেরই শেল্টারে রাখা যাবে।
- প্রকাশ্যে কুকুরদের খাওয়ানো নিষিদ্ধ করা হয় এবং নির্দিষ্ট ‘ফিডিং জোন’ তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পশুপ্রেমীরাও বলছেন, রাস্তা কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করা হলে মানুষের পাশাপাশি কুকুরের জীবনও ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এই পরিস্থিতিতে সরকারি উদ্যোগ ছাড়া নির্বীজকরণ ও টিকাকরণ সম্ভব নয়। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টের এই চরম হুঁশিয়ারির পর রাজ্য সরকারগুলি কী ধরনের উদ্যোগ নেয়।





