‘অপমানের বদলা নিতেই দল ভাঙাচ্ছেন শাহ!’ এনডিএ-কে তীব্র আক্রমণ কংগ্রেসের

কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোটকে এবার নতুন নাম দিলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ। এনডিএ-র পূর্ণরূপ ‘ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স’-এর পরিবর্তে তিনি একে ‘ন্যাশনাল ডিফেক্টরস অ্যালায়েন্স’ বা ‘দলত্যাগীদের জোট’ বলে কটাক্ষ করেছেন। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও সংবিধান ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন তিনি।
কী বললেন জয়রাম রমেশ? সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়রাম রমেশ বলেন, “অমিত শাহ এনডিএ-কে ‘ন্যাশনাল ডিফেক্টরস অ্যালায়েন্স’-এ পরিণত করতে মরিয়া। ১৭ এপ্রিল ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি অপমানিত বোধ করেছিলেন। সেই পরাজয়ের বদলা নিতেই এখন সবথেকে নোংরা কৌশল অবলম্বন করছেন তিনি।”
তাজ্যব দাবি কংগ্রেসের: জয়রামের অভিযোগ, লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারার আক্ষেপ থেকেই শাহ বিরোধী দল ভাঙার খেলায় নেমেছেন। তিনি বলেন, “১৭ এপ্রিল ৫৪৩ জনের মধ্যে ৩৬২টি ভোটের প্রয়োজন থাকলেও সরকার মাত্র ২৯৮টি ভোট পেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে না পেরে তিনি এখন সাংসদদের প্রলোভন দেখিয়ে দলে টানার চেষ্টা করছেন।”
জয়রাম রমেশের কথায়, “মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের যেভাবে বিভিন্ন প্যাকেজ অফার করা হয়, ঠিক সেভাবেই সম্ভবত ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি সাংসদকে তাঁদের প্রয়োজন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে।”
সর্দার প্যাটেলের প্রসঙ্গ: দেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের পদের কথা স্মরণ করিয়ে জয়রাম রমেশ বলেন, “এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, যে পদে একসময় বল্লভভাই প্যাটেল আসীন ছিলেন, সেই পদে বসে আজ এক ব্যক্তি নিজের অপমানের বদলা নিতে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হানছেন।”
ভাঙনের জল্পনা উড়িয়ে দিলেন জয়রাম: উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভড় সমাজবাদী পার্টিতে বড় ভাঙনের যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাকেও গুরুত্ব দিতে নারাজ কংগ্রেস। জয়রামের স্পষ্ট দাবি, এটি অমিত শাহের ছড়িয়ে দেওয়া বিভ্রান্তি এবং মনস্তাত্ত্বিক খেলার অংশ। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমি নিশ্চিত করতে পারি, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে অমিত শাহ সফল হবেন না।”
রাজনৈতিক মহলে জয়রাম রমেশের এই মন্তব্য এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের তীব্র ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।