পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১০২১ কোটি টাকা ছাড়ল কেন্দ্র, ৬ষ্ঠ অর্থ কমিশনের রিপোর্ট না দেওয়ায় তৈরি হয়েছিল জটিলতা

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal Government) জন্য আটকে থাকা কেন্দ্রীয় তহবিল ছাড়ার কথা জানাল কেন্দ্র সরকার। এই ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে। রাজ্যের শর্তাধীন ১০২১ কোটি টাকা বেশ কয়েক মাস আটকে থাকার পর এই টাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

কেন তহবিল আটকে ছিল?

 

প্রতি বছরই কেন্দ্র অর্থবর্ষে দুটি কিস্তিতে টাকা দেয় রাজ্যকে। চলতি বছরের জুলাই মাসে রাজ্য প্রথম কিস্তির টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু এর পরেই কেন্দ্র একটি চিঠি পাঠিয়ে তহবিল আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।

কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, ষষ্ঠ অর্থ কমিশনের রিপোর্ট বিধানসভায় জমা না পড়া এবং আরও কয়েকটি প্রয়োজনীয় নথি জমা না দেওয়ায় তহবিল আটকে দেওয়া হতে পারে।

কত টাকা আটকে ছিল?

 

কেন্দ্রের হুঁশিয়ারির পর রাজ্য দ্রুত ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ সহ সব নথি কেন্দ্রকে পাঠিয়ে দেয়। তবুও বেশ কিছু মাস এই জটিলতা বজায় থাকে। এই সময়ে:

  • রাজ্য কেবলমাত্র ৬৮০ কোটি টাকার নিঃশর্ত তহবিল পেয়েছিল।

  • কিন্তু শর্তাধীন ১০২১ কোটি টাকা আটকে ছিল।

এই টাকা সাধারণত গ্রামে পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প চালানোর জন্য বরাদ্দ করা হয়। ফলে টাকা আটকে থাকায় সেই সব কাজ ধীর হয়ে গিয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ আগেও রাজ্য দ্রুত টাকা ছাড়ার জন্য কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছিল।

এখন রাজ্যের লক্ষ্য

 

আটকে থাকা টাকা শেষমেশ হাতে আসায় এখন রাজ্য প্রশাসন স্বস্তিতে। তবে এক রাজ্য প্রশাসনিক কর্তা জানান:

“অর্থবর্ষ শেষ হতে আর চার মাস বাকি। এই টাকা দিয়ে যে কাজ ছিল, সেগুলো দ্রুত শেষ করে আমাদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দাবি করতে হবে। যদি আরও একটু আগে টাকা পাওয়া যেত, তাহলে আরও ভালো হত।”

এখন রাজ্যের (West Bengal Government) মূল লক্ষ্য হলো যত দ্রুত সম্ভব গ্রামীণ প্রকল্পের কাজ শেষ করা এবং পরবর্তী কিস্তির দাবি তোলা। এতে গ্রামীণ উন্নয়নের কাজও আবার গতি পাবে বলে আশা প্রশাসনের।