“পর পর সাত রাত হামলা!”-ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঝাঁঝ বাড়াতে মরিয়া ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার সংঘাত বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনী ইজরায়েলে অতিরিক্ত কয়েক ডজন আকাশে জ্বালানি ভরার ক্ষমতা সম্পন্ন (এরিয়াল রিফুয়েলিং) বিমান মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অ্যাক্সিওস-এর একটি প্রতিবেদন এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ।

কেন এই প্রস্তুতি? সূত্রের খবর, ওয়াশিংটন ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আরও বড় কোনো সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে। চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বেশ কয়েকটি নতুন সামরিক বিকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

টার্গেট ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো: মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটি: সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ধ্বংস করার লক্ষ্যে।

  • বিদ্যুৎকেন্দ্র: দেশের মূল জ্বালানি ও শক্তি পরিকাঠামোর ওপর আঘাত।

  • ভূগর্ভস্থ স্থাপনা: ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ (Pickaxe Mountain)-এর মতো ভূগর্ভস্থ এলাকাগুলোতে হামলার পরিকল্পনা।

ইজরায়েলের ভূমিকা: ইজরায়েলের বেন গুরিয়ন ও রামন বিমানবন্দরে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক মার্কিন বিমান মোতায়েন রয়েছে। ওয়াশিংটন ইজরায়েলের কাছে নতুন করে কয়েক ডজন ফাইটার জেট ও রিফুয়েলিং বিমান পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে ইজরায়েলের বিমানবন্দরে অতিরিক্ত বিমানের চাপ সামলানো নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্বেগও রয়েছে।

টানা সপ্তম রাতে হামলা: এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) নির্দেশে শুক্রবার রাতেও ইরানের ওপর বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এটি টানা সপ্তম রাতের আক্রমণ। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানের সামরিক ক্ষমতাকে ক্রমাগত দুর্বল করে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। ইরানও পাল্টা হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছে, আমেরিকার এই আগ্রাসন তাদের কোনোমতেই দমাতে পারবে না।

মধ্যপ্রাচ্যের এই রণক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়।