হানিমুনে খুন নয়, বিছানায় সাপ ছেড়ে স্বামী নিধন! প্রেমিকের হাত ধরে যে নৃশংস ছক সাজালেন স্ত্রী

মেরঠের হস্তিনাপুর থানা এলাকায় সংঘটিত এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড বর্তমানে গোটা দেশের পুলিশ প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে। দামিনী নামে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে তাঁর স্বামী অতুলকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নীল ড্রামে দেহ লুকানো বা হানিমুনে খুনের মতো নৃশংস ঘটনার নজির সমাজ দেখেছে, কিন্তু দামিনীর বেছে নেওয়া খুনের পদ্ধতিটি ছিল এক কথায় অবিশ্বাস্য এবং শিহরণ জাগানোর মতো। একজন স্কুল পরিচালনাকারী অতুলকে সরিয়ে দিতে স্ত্রী দামিনী যে সর্প-তত্ত্বের আশ্রয় নিয়েছিলেন, তা গোয়েন্দাদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সূত্রের খবর, অতুলের সঙ্গে দামিনীর সাত বছরের দাম্পত্য জীবন ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই দামিনীর মন গলে বাড়ির গাড়িচালকের প্রতি। তাদের এই অবৈধ প্রেমের সম্পর্ককে পূর্ণতা দিতেই অতুল হয়ে ওঠেন পথের কাঁটা। দামিনী বুঝতে পেরেছিলেন, সরাসরি স্বামীকে খুন করলে আইনি জালে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই তিনি এমন এক পদ্ধতির পরিকল্পনা করেন, যাকে সহজেই ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যায়। নিজের প্রেমিক গাড়িচালক এবং এক সাপুড়েকে সাথে নিয়ে দামিনী এক মরণফাঁদ তৈরি করেন।
পরিকল্পনা মাফিক, এক রাতে অতুল যখন নিজের শোবার ঘরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখন দামিনীর প্রেমিক গাড়িচালক চুপিসারে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। বিছানায় থাকা অতুলের ওপর তারা বিষধর সাপ ছেড়ে দেয়। সাপের ছোবলে যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে অতুলের মৃত্যু হয়। দামিনীর মূল লক্ষ্য ছিল এই মৃত্যুকে নিছক একটি দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানো, যাতে পুলিশের নজর এড়িয়ে যাওয়া যায়। প্রাথমিক অবস্থায় পরিবারের সদস্যরাও একে সাপের কামড়েই মৃত্যু বলে ধরে নিয়েছিলেন, ফলে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
তবে খুনিরা জানত না যে, বিধাতা অন্য কিছু লিখে রেখেছেন। পুলিশ যখন ঘটনার তদন্ত শুরু করে, তখন কিছু অসঙ্গতি এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সন্দেহ বাড়ে। প্রযুক্তির সাহায্য এবং কল ডিটেইলস রেকর্ডের (CDR) বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে বেরিয়ে আসে দামিনীর গোপন অভিসারের চাঞ্চল্যকর তথ্য। জেরার মুখে ভেঙে পড়ে দামিনী এবং তাঁর প্রেমিক গাড়িচালক পুরো ষড়যন্তের কথা স্বীকার করে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের পাশাপাশি আর্থিক লোড বা বিমা পলিসির টাকার সংযোগও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি খুনের ঘটনায় সাপুড়েকে কাজে লাগানোর মতো ঘটনা মেরঠের বাসিন্দাদের স্তম্ভিত করেছে। বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে এবং এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একটি সাজানো সুখের সংসার যে এমন রক্তক্ষয়ী পরিণতি পাবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি স্বজনরা।