‘পরিবেশ রক্ষা আমাদের অঙ্গীকার’, সবুজ আচ্ছাদন ও বন্যপ্রাণী বৃদ্ধিতে ভারতের জয়জয়কার

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এক দশকে ভারতের অভাবনীয় সাফল্যের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে সামনে রেখে দেশের পরিবেশগত উন্নতির যে চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন, তা নিঃসন্দেহে গর্বের। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, গত দশ বছরে সরকারের নেওয়া সঠিক নীতি, বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই ভারত আজ পরিবেশ সংরক্ষণে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেলে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যাঁরা প্রতিনিয়ত নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে চলেছেন, তাঁদের আমি কুর্নিশ জানাই।” মোদি মনে করিয়ে দেন যে, এই দিনটি কেবল উদযাপনের নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের শপথ নেওয়ার দিন।
বিগত এক দশকের সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলস্বরূপ দেশে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দুটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন। প্রথমত, ভারতের বনাঞ্চল বা সবুজ আচ্ছাদন (Green Cover) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর সংখ্যায় যে ক্রমবর্ধমান হার লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা ভারতের প্রকৃতি সংরক্ষণের সাফল্যেরই প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ভারতীয় নাগরিকরা দেখিয়েছেন যে কীভাবে সঠিক পরিকল্পনা এবং উদ্ভাবনী শক্তির ওপর আস্থা রেখে পরিবেশের মান উন্নয়ন করা সম্ভব।
প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP)-র হাত ধরে শুরু হওয়া এই দিবসটি আজ বিশ্বের বৃহত্তম পরিবেশ সচেতনতামূলক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। এবারের ২০২৬ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আয়োজক দেশ হলো আজারবাইজান। এ বছরের মূল থিম রাখা হয়েছে— “প্রকৃতি দ্বারা অনুপ্রাণিত। জলবায়ুর জন্য। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য।” বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার জন্য জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে এই থিমের মাধ্যমে।
সবুজায়ন থেকে শুরু করে বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা— সব ক্ষেত্রেই ভারত গত কয়েক বছরে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই বার্তা দেশবাসীকে পরিবেশ রক্ষার কাজে আরও সক্রিয় ও দায়বদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের এই পরিবেশগত সাফল্যের কাহিনী আজ শুধু দেশের সীমানাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বিশ্বজুড়ে পরিবেশকর্মীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।