পরিবেশের সুরক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়! এবার থেকে কাজ শুরুর আগেই মিলতে হবে বাধ্যতামূলক পরিবেশগত ছাড়পত্র!

উন্নয়ন এবং পরিবেশের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক অত্যন্ত যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে দেশের মাটিতে যেকোনো নতুন পরিকাঠামো বা শিল্প প্রকল্প শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বাধ্যতামূলকভাবে পরিবেশগত ছাড়পত্র (Environmental Clearance) অর্জন করতে হবে। বিচারালয় অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো প্রকল্পের কাজ একবার শুরু হয়ে যাওয়ার পর বা কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরে আর পিছনের দরজা দিয়ে কোনো প্রকার পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করা হবে না। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই বেঞ্চ অত্যন্ত স্পষ্ট করে এও জানিয়েছে যে, এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি শুধুমাত্র ভবিষ্যতের নতুন উদ্যোগগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, অতীতে যে সমস্ত প্রকল্প ইতিমধ্যেই যথাযথ নিয়ম মেনে পরিবেশগত ছাড়পত্র অর্জন করেছে, বর্তমান এই নতুন রায়ের ফলে তাদের কোনোভাবেই কোনো প্রকার নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়তে হবে না।

এই বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বিশেষভাবে ২০২১ সালের একটি বিতর্কিত সরকারি আদেশ বা নির্দেশিকা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে দিয়েছে। তৎকালীন সেই সরকারি আদেশের বদৌলতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থা বা কোম্পানিগুলি পূর্বানুমতি ছাড়াই নিজেদের প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারত এবং কাজ শেষের পথে বা সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারি ছাড়পত্র বা অনুমোদন আদায় করে নিতে পারত। শীর্ষ আদালত এদিন এই নীতিটিকে খারিজ করে জানিয়েছে যে, প্রকৃতির মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে পরবর্তীতে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার এই সংস্কৃতি বা পদ্ধতি কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ভবিষ্যতের দিনগুলিতে কোনো সংস্থাকেই এই ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং পূর্বানুমতি ছাড়া মাটির কাজ বা নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে না।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায়টি প্রদান করেছে। দীর্ঘ ছয় দিন ধরে চলা অত্যন্ত ম্যারাথন শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার রায়দান সুরক্ষিত রেখেছিল। আদালতের এই স্পষ্ট নির্দেশের ফলে ইতিমধ্যেই যে সমস্ত সংস্থা বা প্রকল্প পুরোনো নিয়মের আইনি সুরক্ষাবলের অধীনে অনুমোদন পেয়ে সুরক্ষিত রয়েছে, তাদের বর্তমান কার্যক্রমে কোনো বাধা আসবে না। দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশ দূষণ রোধের ক্ষেত্রে আদালতের এই রায় এক সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন পরিবেশবিদ ও আইন বিশেষজ্ঞরা।