পরিবর্তন নাকি রেকর্ড? বিহারে চূড়ান্ত দফার ভোটে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৪৭.৬২% ভোট, প্রথম দফার রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় এবং চূড়ান্ত দফায় ভোটারদের অভূতপূর্ব উৎসাহ। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে ২২টি জেলার ১২২টি আসনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা পর্যন্ত ৪৬.৬২% ভোটার নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা প্রথম দফার (৪২.৪৩%) তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর ফলে এবারের ভোটে রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সীমান্তবর্তী সীমাঞ্চল অঞ্চলে মুসলিম এবং দলিত ভোটাররা এই নির্বাচনের ‘কিঙ্গমেকার’ হয়ে উঠেছেন। কিষাণগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫১% ভোট পড়েছে, যেখানে মধুবনীতে সবচেয়ে কম ৪২%। সকাল ৯টায় ১৪.৫৫% এবং ১১টায় ৩১.৩৮% ভোটের পর দুপুরের গরমে গতি কিছুটা কমলেও, লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে নারীরা পরিবর্তন আসার আশা প্রকাশ করেছেন।

এই চূড়ান্ত দফায় নীতীশ কুমার সরকারের ১২ জন মন্ত্রী-সহ ১,৩০২ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩৬ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। প্রধান দুই জোট—এনডিএ এবং মহাগঠবন্ধনের শীর্ষ নেতারা ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন:

এনডিএ (NDA): জেডিইউ-বিজেপি জোট শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে কথা বলছে। নীতীশ কুমার ভোটারদের রেকর্ড তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, “বিহারের মানুষ ইন্ডিয়া জোটকে ৬৫ ভোল্টের ঝটকা দিয়েছে।”

মহাগঠবন্ধন (Mahagathbandhan): আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব যুবক-যুবতীদের চাকরি এবং মাইগ্রেশন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা নীতীশের ২০ বছরের রাজত্ব ভাঙবেন।

সীমাঞ্চলে মুসলিম ভোটারদের দিক নির্ধারণকারী ভূমিকা থাকায় আসাদুদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএমও মাঠে নেমেছে। এছাড়া, উপেন্দ্র কুশওয়াহার আরএলএম (কোয়েরি সম্প্রদায়ের ভোট ভাগ করতে পারে) এবং মুকেশ সাহনির পার্টি (নিষাদ ও ইউনার্ডিসি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে) এই দফায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

জেহানাবাদের ঘোসী বুথে দুই গ্রুপের মধ্যে ঝগড়া এবং পশ্চিম চম্পারণে একটি বুথে ইউনিফর্ম ছাড়া পুলিশের মতো ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৪৫,৩৯৯টি বুথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।