পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্ত থেকে বাঁচিয়েছি! ভারত-পাক সংঘাত নিয়ে ফের বিস্ফোরক ট্রাম্প, পাল্টা জবাব জয়শঙ্করের

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ প্রায় আসন্ন ছিল এবং সেই যুদ্ধ বন্ধের কৃতিত্ব একমাত্র তাঁরই— ফের এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্লুমবার্গ সূত্রের খবর, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। যদিও ভারত বরাবরই দুই দেশের সংঘাত নিরসনে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত যখন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করেছিল, তার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানও হামলা চালায়। এই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধ থামাতে আমরা দারুণ সফল হয়েছি। ভারত ও পাকিস্তানের দিকে তাকান… যেভাবে চলছিল, তাতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ বেঁধে যেত। খুব খারাপ দিকে যাচ্ছিল… আমরা ব্যবসাকে হাতিয়ার করে এই সমস্যার সমাধান করেছি।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “আমি বলেছি, আপনারা এর সমাধান না করলে আমরা আপনার সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে কথা বলব না। এবং তারা তাই করেছে…” ট্রাম্পের এমন দাবি অবশ্য এবারই প্রথম নয়। অতীতেও তিনি একাধিকবার ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত বন্ধে তাঁর ভূমিকার কথা বলেছেন। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও-ও একই ধরনের দাবি করেছেন।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে ভারতের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মার্কিন মুলুকে দাঁড়িয়েই ট্রাম্পের দাবিকে কার্যত খারিজ করে দেন। নিউইয়র্কে নিউজউইকের সাথে এক একান্ত আলাপচারিতায় জয়শঙ্কর জানান, মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় আসলে পাকিস্তানই যুদ্ধবিরতির আবেদন জানিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড ভান্সের ফোনে যখন কথোপকথন হয়, তখন তিনি নিজেই সেই ঘরে উপস্থিত ছিলেন বলে জয়শঙ্কর দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি আপনাকে বলতে পারি যে ৯ মে রাতে যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্স প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাথে কথা বলেছিলেন, তখন আমি সেই ঘরে ছিলাম। সেই সময় তিনি বলেছিলেন যে পাকিস্তানিরা ভারতের উপর একটি বিশাল আক্রমণ চালাবে… আমরা তাঁর বলা বেশ কিছু জিনিস মেনে নিইনি, এবং পাকিস্তানিরা কী করার হুমকি দিচ্ছিল সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত ছিলেন।”

জয়শঙ্কর আরও স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্সকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে পাকিস্তান হামলা করলে আমরা আরও কড়া জবাব দেব।” এরপর আমেরিকার সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওর সঙ্গে জয়শঙ্করের ফোনে কথা হয়। সেই সময় রুবিও বলেছিলেন যে পাকিস্তানিরা কথা বলতে প্রস্তুত। এর পরেই পাকিস্তানের ডিজিএমও কাশিফ আবুল্লা সরাসরি ভারতের ডিজিএমও জেনারেল রাজীব ঘাইকে ফোন করেছিলেন, যা প্রমাণ করে যে পাকিস্তানের দিক থেকেই যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

ট্রাম্পের বারবার ভারতের ওপর ‘শান্তি স্থাপনকারী’ হিসেবে নিজেদের কৃতিত্ব চাপানোর চেষ্টা এবং ভারতের এই কড়া জবাব— দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে ফের একবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনার বিষয় করে তুলেছে।