পয়লা বৈশাখে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর ‘রাম’ কার্ড! ১৫ বছরের ‘চোর’ হঠাতে চাইলেন এক সুযোগ!

চৈত্র সংক্রান্তির গেরুয়া রেশ কাটিয়ে বৈশাখের ভোরেই বাংলায় রাজনীতির পারদ চড়ল তুঙ্গে। একদিকে রাজ্যজুড়ে নববর্ষের উৎসব, অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঠিক এই আবহে পয়লা বৈশাখের সকালে নিজের খাসতালুক নন্দীগ্রামে ‘প্রভাতে ফেরি’-তে অংশ নিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই নাম না করে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।

এদিন সকালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ মানুষ তাঁকে মালা পরিয়ে এবং পুষ্পবৃষ্টি করে স্বাগত জানান। জনসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু সরাসরি পরিবর্তনের ডাক দেন। তিনি বলেন, “রাজ্যে ৩৫ বছর বামেরা শাসন করেছে, আর গত ১৫ বছর ধরে চোরেরা শাসন চালাচ্ছে। এবার বদলের সময় এসেছে। একবার ‘রাম’-কে সুযোগ দিয়ে দেখুন।” তাঁর এই ‘রাম’ কার্ড এবং শাসকদলকে ‘চোর’ বলে কটাক্ষ করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

অন্যদিকে, ভোটের উত্তাপ থেকে পিছিয়ে নেই অন্য জেলাগুলোও। হুগলির চুঁচুড়ায় বিজেপির হয়ে প্রচারের ময়দান মাতালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি জুবিন ইরানি। হুডখোলা গাড়িতে তাঁর রোড শো দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। পাল্টা লড়াই দিচ্ছে তৃণমূলও। কলকাতার বেলেঘাটায় ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিশাল র‍্যালি করেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, “গোটা রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে জোয়ার এসেছে। বেলেঘাটার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দিদির পাশে দাঁড়িয়েছেন।”

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি দুটি হাই-প্রোফাইল আসনে লড়ছেন—নন্দীগ্রামে তৃণমূলের পবিত্র করের বিরুদ্ধে এবং ভবানীপুরে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে পরবর্তী দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ফল জানা যাবে ৪ মে।