পদ্ম শিবিরের বড় চমক! দিল্লি থেকে ত্রিপুরা—নতুন সভাপতি নিয়োগে কোন অঙ্ক কষল মোদী-শাহের দল?

আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির তোড়জোড় শুরু করে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আনল পদ্ম শিবির। দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং ত্রিপুরা—এই চার রাজ্যে নতুন রাজ্য সভাপতি নিয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সংগঠনকে আরও গতিশীল করার বার্তা দিল। বিজেপি সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরে আমূল রদবদলের পরিকল্পনা ছিল শীর্ষ নেতৃত্বের। বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই রদবদলের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন।

কারা পেলেন নতুন দায়িত্ব?
রাজধানী দিল্লিতে বিজেপির নতুন সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা পূর্ব দিল্লির সাংসদ হর্ষ মলহোত্র। গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়েই জয়ী হন তিনি। গৌতম গম্ভীরের ছেড়ে দেওয়া কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। প্রথমবার সাংসদ হয়েই তিনি কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স এবং সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। এবার তাঁর কাঁধে উঠল দিল্লির বিজেপির মূল চাবিকাঠি।

ত্রিপুরার ক্ষেত্রেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মাতারবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক অভিষেক দেব রায়কে ত্রিপুরার রাজ্য বিজেপির সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার ভোটে লড়েই তিনি প্রায় ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে চমক দিয়েছিলেন। এবার তাঁকে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব দিয়ে ত্রিপুরায় বিজেপির ভিত আরও মজবুত করতে চাইছে হাইকমান্ড।

পাঞ্জাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা কেওয়াল সিং ধিলোঁ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেওয়াল সিং দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, হরিয়ানায় রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে অর্চনা গুপ্তাকে। এর আগে তিনি হরিয়ানা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন মহিলা নেত্রীকে রাজ্য সভাপতির চেয়ারে বসিয়ে বিজেপি হরিয়ানার রাজনীতিতে নারী শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার ইঙ্গিত দিল।

কেন এই রদবদল?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যে রাজ্যগুলিতে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে, মূলত সেই রাজ্যগুলিতেই বিজেপির এই সাংগঠনিক পরিবর্তন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্য নেতৃত্বের সমন্বয় আরও মসৃণ করা এবং সংগঠনের নিচুতলা পর্যন্ত কর্মীদের সক্রিয় করাই এই রদবদলের মূল লক্ষ্য। হর্ষ মলহোত্র, অভিষেক দেব রায়দের মতো তরুণ এবং দক্ষ নেতাদের সামনে এনে বিজেপি ২০২৭ বা পরবর্তী ভোট যুদ্ধের আগাম মহড়া শুরু করে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy