পথ নিরাপত্তা সপ্তাহে এ কোন ছবি! মাইকে সচেতনতার প্রচার, আর কানে হেডফোন গুঁজে রাস্তা পার ‘জেন জি’র

রাজ্যজুড়ে চলছে বিশেষ পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ। মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বড় আকারের সচেতনতা অভিযান শুরু হয়েছে। গত ৩ অগাস্ট পার্ক সার্কাস ৭ পয়েন্ট থেকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা আনুষ্ঠানিকভাবে “রোড সেফটি উইক”-এর উদ্বোধন করেন। সেদিনই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, প্রতিটি থানা এবং ট্রাফিক গার্ডের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কাজ চলবে। কিন্তু এই সচেতনতা সপ্তাহের চতুর্থ দিনে খাস কলকাতার রাস্তায় যে ছবি ধরা পড়ল, তা সত্যি ভাবনার বিষয়। প্রশাসন যতই কড়া পদক্ষেপের কথা বলুক না কেন, সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা যেন থামার নামই নিচ্ছে না।

খাস কলকাতার ইএম বাইপাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং রুবি মোড়ে গিয়ে দেখা গেল এক অদ্ভুত চিত্র। দক্ষিণ থেকে উত্তরমুখী বাস স্টপেজের দুটি প্যাসেঞ্জার শেল্টারের করুণ দশা। একটি শেল্টারে ঝুলছে পুরনো তোষক, আর অন্যটি পুরোপুরি ফাঁকা ও নোংরা আবর্জনায় ভরপুর। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা শেল্টার ছেড়ে একেবারে ক্রসিংয়ের মুখে এসে দাঁড়িয়ে বাস বা প্যাসেঞ্জার ভ্যানের অপেক্ষা করছেন। এ বিষয়ে নানা মানুষ নানা যুক্তি দিলেও, পথ নিরাপত্তা সপ্তাহেও যে সচেতনতার মারাত্মক অভাব রয়েছে, তা অনেকেই অকপটে স্বীকার করেছেন। তবে ভিড় দেখে অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ক্যামেরা দেখলেই কেবল পুলিশি তৎপরতা চোখে পড়ছে, কিন্তু মাইকে সচেতনতার প্রচার চললেও পথচারীরা যেন এসবে একেবারেই কর্ণপাত করতে নারাজ।

অন্যদিকে, কলকাতার অন্যতম ব্যস্ততম অঞ্চল শোভাবাজারের রাস্তা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ থেকে শ্যামবাজার এবং উল্টোডাঙার ক্রসিংগুলোতে ট্রাফিক সিগন্যাল না মেনেই দেদার রাস্তা পারাপার চলছে। শোভাবাজারের মেট্রো ১ নম্বর গেটের কাছেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। কানে হেডফোন গুঁজে ব্যস্ত রাস্তা পার হতে গিয়ে নিউজ ১৮ বাংলার ক্যামেরার সামনে এক তরুণ পথচারী যে অদ্ভুত অজুহাত দিয়েছেন, তা শুনে রীতিমতো অবাক হতে হয়। জানতে চাওয়া হলে ওই তরুণ সাফাই দিয়ে বলেন, “আমরা জেন জি (Gen Z), তাই কানে হেডফোন নিয়েই রাস্তা পেরোব। রাস্তায় খুব আওয়াজ হয়, তাই এই ভাবে চলাফেরা করি।” অবশ্য এই অদ্ভুত যুক্তির পাশাপাশি কেউ কেউ নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমাও চেয়েছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামতে হয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও। শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। শ্যামবাজারের পাঁচ মাথার মোড় থেকে একগুচ্ছ পেশাদার বাইক চালকদের নিয়ে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে একটি বিশাল র‍্যালিরও আয়োজন করা হয়। জেন জির এই বেপরোয়া মনোভাব এবং ‘কানে হেডফোন নিয়ে রাস্তা পার হবই’ এই জেদের বিষয়ে মন্ত্রী তাপস রায় অত্যন্ত সংযত সুরে বলেন, “আমি ওদের থেকে বয়সে বড়, তাই ওদের স্নেহের সঙ্গেই বলব নিজের প্রাণের ঝুঁকি এভাবে বাড়িয়ে তুলবেন না। জীবন অনেক মূল্যবান।” সবমিলিয়ে, কলকাতার রাস্তায় পুলিশের মাইক প্রচার ও কড়া নজরদারি সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের অসচেতনতা যে পথ নিরাপত্তাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে, তা বলাই বাহুল্য।