পরিবারের মতো এক হয়েও শুটিং শেষ! ‘ইয়ে প্রেম মোহ লিয়া’র অন্দরের গল্প ফাঁস করে আবেগপ্রবণ স্বানন্দ কিরকিরে

বলিউডের সোনালী পারিবারিক বিনোদনের দুনিয়ায় পরিচালক সূরজ বড়জাতিয়ার ছবির জুড়ি মেলা ভার। সেই চিরাচরিত পারিবারিক মূল্যবোধ ও আবেগঘন গল্পের ধারাকেই ফের রূপোলি পর্দায় ফিরিয়ে আনতে চলেছে তাঁর অত্যন্ত প্রতীক্ষিত আগামী ছবি ‘ইয়ে প্রেম মোহ লিয়া’। এই ছবিতে প্রথমবার জুটি বাঁধছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানা এবং প্রতিভাবান অভিনেত্রী শারভরী ওয়াঘ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই প্রজেক্টের শুটিং ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আর শেষ দিনের শুটিং শেষ হতেই নিজের আবেগ ও ভেতরের কথা আর চেপে রাখতে পারেননি বিশিষ্ট অভিনেতা, গীতিকার ও সুরকার স্বানন্দ কিরকিরে।

ছবিটির শুটিং পর্ব সম্পূর্ণ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বানন্দ কিরকিরে জানান যে, যেকোনো বড় প্রজেক্টের কাজ শেষ হওয়া মানেই এক অদ্ভুত এবং মিশ্র অনুভূতির জন্ম দেওয়া। একদিকে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পর কাজ সফলভাবে শেষ হওয়ার একটা তৃপ্তি থাকে, অন্যদিকে প্রতিদিন একসঙ্গে কাজ করা সহকর্মীদের ছেড়ে আসার এক চাপা কষ্টও কাজ করে। তবে ‘ইয়ে প্রেম মোহ লিয়া’-র ক্ষেত্রে এই অনুভূতির মাত্রা ছিল কিছুটা আলাদা। তাঁর মতে, ছবির ইউনিট দীর্ঘ কাজের সুবাদে ধীরে ধীরে কেবল পেশাদার সহকর্মীদের গণ্ডি পার করে একটি সত্যিকারের সুখের পরিবারে রূপান্তরিত হয়েছিল।

বিশেষ করে রাজশ্রী প্রোডাকশনের মতো বিখ্যাত ব্যানার এবং পরিচালক সূরজ বড়জাতিয়ার নির্দেশনায় কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, সেকথা বলতে গিয়ে স্বানন্দের গলায় স্পষ্ট উচ্ছ্বাস ধরা পড়ে। তিনি জানান, সূরজজির সেটে কাজ করা মানে শুধু একটি সিনেমা করা নয়, বরং এমন এক ইতিবাচক কর্মপরিবেশের অংশ হওয়া যেখানে সেটে উপস্থিত প্রতিটি মানুষকে সমান মর্যাদা, অপরিসীম সম্মান এবং আন্তরিকতা দেওয়া হয়। সেটে কার পদমর্যাদা কী বা কে কোন দায়িত্বে আছেন, তার ওপর ভিত্তি করে কাউকে ছোট বা বড় চোখে দেখা হয় না; বরং সবার প্রতি সমান ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা বজায় থাকে। আর এই ধরনের স্বাস্থ্যকর ও শান্ত পরিবেশই শিল্পীদের কোনো মানসিক চাপ ছাড়া একেবারে নিশ্চিন্ত মনে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে স্বানন্দ আরও বলেন, ‘আমরা ইয়ে প্রেম মোহ লিয়া-র একেবারে শেষ শিডিউলের কাজ শেষ করেছি। শুটিং শেষ হওয়ার এই মুহূর্তটি সবসময়ই মিষ্টি-কষ্টের এক অনুভূতি এনে দেয়। এই দীর্ঘ সফরে আমাদের পুরো টিমটা একটা পরিবারের মতো হয়ে উঠেছিল। সূরজজি এবং রাজশ্রী প্রোডাকশনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সত্যিই আজীবন মনে রাখার মতো। সেটে যে শান্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, তা বর্তমানের ব্যস্ত ইন্ডাস্ট্রিতে খুব কম জায়গাতেই দেখতে পাওয়া যায়।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, সেটে উপস্থিত প্রতিটি মানুষকে যেভাবে ভালোবাসা ও সৌজন্যের চোখে দেখা হয়, তা কাজের ক্লান্তি নিমেষে দূর করে দেয়।

তবে শুটিং ফ্লোরে ক্যামেরার সামনে কাজ শেষ হলেও স্বানন্দের কাছে এই যাত্রার শেষ এখানেই নয়। তাঁর মতে, আসল উত্তেজনা ও অর্জনের পথ এবার শুরু হতে চলেছে ছবি মুক্তির মধ্য দিয়ে। অভিনেতার দৃঢ় বিশ্বাস, এই সিনেমাটি নিছক কোনো গতানুগতিক পারিবারিক বিনোদনমূলক ছবি নয়, বরং এর পরতে পরতে এমন এক গভীর আন্তরিকতা এবং উষ্ণতা লুকিয়ে রয়েছে যা সরাসরি দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এখন ছবি মুক্তির অপেক্ষাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় উত্তেজনার জায়গা। প্রতিটি চলচ্চিত্রই ভীষণ ভালোবাসা দিয়ে তৈরি করা হয়, তবে ‘ইয়ে প্রেম মোহ লিয়া’-র ভেতরে এমন এক আন্তরিক আবেগ রয়েছে যা দর্শক প্রেক্ষাগৃহে বসেই অনুভব করতে পারবেন। আমরা সবাই আমাদের হৃদয়ের আবেগ ও সততা এই ছবিতে ঢেলে দিয়েছি। যখন সাধারণ মানুষ বড় পর্দায় এই ছবি দেখবেন, তখন আমাদের সেই আন্তরিক অনুভূতিগুলোও তাঁদের মনে ঠিক তেমনই পৌঁছবে। আমরা যে বুকভরা ভালোবাসা দিয়ে ছবিটি তৈরি করেছি, শেষ পর্যন্ত দর্শকদের কাছ থেকেও ঠিক ততটাই ভালোবাসা আমরা পাব বলে আমার পূর্ণ বিশ্বাস।’ আয়ুষ্মান ও শারভরীর তাজা কেমিস্ট্রি এবং সূরজ বড়জাতিয়ার জাদুকরী পরিচালনা দেখার জন্য এখন উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছেন সিনেমাপ্রেমীরা।