২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর এবার ভাঙন ধরল খোদ প্রশাসনের অন্দরমহলে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতি ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর শাসনের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত তিন হেভিওয়েট অবসরপ্রাপ্ত আমলা পদত্যাগ করলেন। নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইস্তফা দিলেন তাঁর প্রধান সচিব মনোজ পন্থ।
রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় এই তিন আধিকারিকের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী—উভয়ই রাজ্যের মুখ্য সচিব হিসেবে কাজ করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ অনুরোধে উপদেষ্টা পদে আসীন হয়েছিলেন। অন্যদিকে, মনোজ পন্থ মুখ্য সচিব পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর তাঁকে প্রধান সচিব হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন মমতা। মঙ্গলবার রাতে তিনি বর্তমান মুখ্য সচিবের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে খবর। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের পরাজয় এবং তৃণমূলের শোচনীয় ফলের পর এই আমলাদের সরে দাঁড়ানো আসলে একটি দীর্ঘ ও বর্ণময় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তির ইঙ্গিত।
অন্যদিকে, নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। আজই রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের গেজেট নোটিফিকেশন নিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। জয়ী প্রার্থীদের তালিকা এবং পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের রিপোর্ট রাজ্যপালের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
প্রাসঙ্গিক ভাবে উল্লেখ্য, আজই বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর রাজ্যপাল পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য একক বৃহত্তম দল বা জোটকে আহ্বান জানাবেন। তবে যতদিন না নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিচ্ছেন, ততদিন প্রশাসনিক কাজ কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কার হাতে শাসনভার থাকবে, সে বিষয়েও আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রাজভবন। মমতার বিদায়ে আমলা মহলের এই ‘গণ-ইস্তফা’ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বাংলার প্রশাসনিক অলিন্দে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।





