নোবেল প্রত্যাশী ট্রাম্প এখন অসুর! বাংলার পুজো মণ্ডপে ‘ট্রাম্পাসুর’ থিমে ধুন্ধুমার বিতর্ক, কেন এমন ভাবনা উদ্যোক্তাদের?

যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বর্তমানে নোবেল শান্তি পুরস্কারের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এবং বিশ্বের একাধিক যুদ্ধ থামিয়েছেন বলে দাবি করছেন, সেই ডোনাল্ড ট্রাম্পই এবার অসুররূপে আবির্ভূত হলেন বাংলার এক দুর্গাপুজো মণ্ডপে! বহরমপুরের একটি পুজো মণ্ডপে অসুরের মুখ ট্রাম্পের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে, যা নিয়ে এখন রীতিমতো দানা বেঁধেছে বিতর্ক।
সোশাল মিডিয়ায় এই ‘ট্রাম্পাসুর’-এর ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শিল্পী অসীম পালের হাতে ট্রাম্পাসুর
বহরমপুরের খাগড়া শ্মশানঘাট দুর্গাপুজো কমিটি এই অভিনব থিমটি বেছে নিয়েছে। ফেসবুকে একটি ভাইরাল ভিডিও ক্লিপে (যদিও এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি) দেখা গিয়েছে, একজন শিল্পী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে অসুরের মূর্তির উপর কাজ করছেন এবং তার মাথায় ফ্যাকাশে সোনালি চুল ছাঁটছেন। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প আকৃতির এই মূর্তিটি শিল্পী অসীম পাল তৈরি করেছেন।
কেন এই ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ থিম?
পুজো উদ্যোক্তারা এই থিম বেছে নেওয়ার পেছনে স্পষ্ট যুক্তি দিয়েছেন। আয়োজকদের একজন আনন্দবাজারকে বলেন:
“ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের উপর যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন, যে ভিসা নীতি চালু করেছেন, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই সিদ্ধান্ত। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বন্ধু মনে করতেন, কিন্তু ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এজন্যই তাঁকে একজন অসুর হিসেবে দেখানো হয়েছে।”
অর্থাৎ, ট্রাম্পের কঠোর বাণিজ্যিক নীতি এবং কূটনৈতিক ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই এই ‘ট্রাম্পাসুর’ তৈরি করেছেন উদ্যোক্তারা।
সোশাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া: বিনোদন নাকি রাজনীতি?
ট্রাম্প-রূপী অসুরের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর সোশাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া বিভক্ত। কেউ কেউ মূর্তিটি দেখে হাসছেন এবং থিমের প্রশংসা করছেন। আবার অনেকেই এর সমালোচনা করে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
এক ব্যবহারকারী পোস্টটি শেয়ার করে লেখেন, “এটা ঠিক নয়। পুজো কোনও রসিকতা নয়।” অন্য আরেকজনের মন্তব্য, “দুর্গাপুজো আজকাল বিনোদন হয়ে উঠছে। আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন অসুরদের ভয় পেতাম। এখন যা দেখি তা পুজো নয়, কেবল বিনোদন।”
রাজনৈতিক থিমের জন্য অতীতেও রাজ্যের বহু পুজো মণ্ডপ শিরোনামে এসেছিল। এবার নোবেল প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অসুর বানিয়ে খাগড়া শ্মশানঘাট পুজো কমিটি সেই ধারাতেই যুক্ত হলো।