নৈহাটিতে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার জের! গ্রেফতার তৃণমূলের প্রাক্তন পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায়

রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব এবার স্পষ্ট নৈহাটির অন্দরে। বিজেপি আয়োজিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ কর্মসূচিতে দলীয় কর্মীদের মারধর এবং বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন নৈহাটি পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা অশোক চট্টোপাধ্যায়। এই গ্রেফতারি ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের পতনের পর একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগের জেরে একের পর এক হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলে দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, অশোক চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও গঙ্গা থেকে অবৈধভাবে বালি পাচারের অভিযোগে তাঁর ছেলে অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার পিতার গ্রেফতারিতে পরিবারটির অস্বস্তি আরও বাড়ল। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর ও তাঁদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনার নেপথ্যে মূল নির্দেশদাতা ছিলেন এই প্রাক্তন পুরপ্রধান। পুলিশের হাতে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ আসতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
অন্যদিকে, রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় এখন ২১শে জুলাইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে চরম অস্বস্তি চলছে। কালীঘাট ও মেয়ো রোডের সভাস্থল নিয়ে বিবাদ থেকে শুরু করে একুশের সমাবেশের প্রস্তুতি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই যেন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন দলের একাংশ ২১শে জুলাইয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, অন্যদিকে তখন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের মতো তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নেতার দলত্যাগের গুঞ্জন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নেত্রীকে সরি লিখে তাঁর পোস্ট তৃণমূলের অন্দরে ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরই মাঝে সুরুচি সঙ্ঘের মতো নামী পুজো কমিটির খুঁটিপুজোয় ‘বিশ্বাস-ব্রাদার্স’-এর অনুপস্থিতি এবং নতুন সম্পাদক হিসেবে বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদারের উপস্থিতি শাসকদলের সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক আধিপত্যের পতনকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে চর্চা হচ্ছে, এই গ্রেফতারি নিছক আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং ক্ষমতার পালাবদলের এক অমোঘ পরিণতি। বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, রাজ্যে আইনের শাসন ফিরেছে এবং অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, টিএমসি শিবির এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই গ্রেফতারি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের পুরনো দাপট যে ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে, তা নৈহাটির এই ঘটনায় আরও একবার প্রমাণিত হলো। এখন দেখার বিষয়, একের পর এক নেতার গ্রেফতারি এবং কোণঠাসা অবস্থার মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নিজেদের অস্তিত্ব কতটা বজায় রাখতে পারে।