রাখিপূর্ণিমার দিনেই মর্মান্তিক পরিণতি! ময়নাতদন্তে নিয়ে যাওয়ার আগে দাদাকে শেষবার রাখি পরালেন বোন, চোখে জল এলাকাবাসীর

রাখিপূর্ণিমার আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে বদলে গেল যাদবপুরের সেন পরিবারে। বারুইপুরে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই অল্প বয়সী যুবক। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মৃতদের একজন সাগ্নিক সেন, যাঁর নিথর দেহের হাতে ময়নাতদন্তে নিয়ে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো রাখি পরিয়ে দিলেন তাঁর বোন। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যে কেঁদে উঠেছে উপস্থিত এলাকাবাসীর মনও।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর থেকে একটি গাড়িতে করে যাদবপুরের দিকে ফিরছিলেন পাঁচ যুবক। সোনারপুর থানার অন্তর্গত চৌহাটি সংলগ্ন এলাকায় একটি স্কুলের সামনে আসার পর হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রাস্তার পাশে একটি গাছে সজোরে ধাক্কা মারে। তীব্র বেগের জেরে গাড়িটি একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গাড়িতে থাকা পাঁচজনের মধ্যে দু’জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকি তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। নিহত দুই যুবকের নাম সাগ্নিক সেন ও শৌনক ভট্টাচার্য, যাঁদের উভয়ের বাড়িই যাদবপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে প্রাথমিক অনুমান, গাড়িটির বেপরোয়া গতিই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ। ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য যখন সাগ্নিকের দেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন এক করুণ দৃশ্যের সাক্ষী থাকেন স্থানীয়রা। উৎসবের দিনে ভাইয়ের কবজিতে রাখি পরানোর স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল বোনের। উল্টে নিথর দাদার হাতে রাখি পরাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। চোখের জলে ভেসে যায় চারপাশ। শহর তথা রাজ্যে বেপরোয়া গতি এবং সচেতনতার অভাবে একের পর এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা যে কীভাবে হাসি কেড়ে নিচ্ছে হাসিখুশি পরিবারগুলোর, এই ঘটনা তারই এক নির্মম নিদর্শন হয়ে রইল।