নেপালে Gen-Z বিক্ষোভের নতুন মোড়! সেনা প্রধানের বৈঠকে কেন বেঁকে বসলেন আন্দোলনকারীরা?

নেপালে চলমান গণবিক্ষোভের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পদত্যাগের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। আন্দোলনকারীরা এখন নতুন নেতৃত্ব খুঁজছেন এবং এই বিষয়ে তারা সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু সেই বৈঠক থেকে হঠাৎ করে বেরিয়ে এলেন আন্দোলনকারীরা। এর পেছনের কারণ কী?

সংবাদমাধ্যম মাই রিপাবলিকা থেকে জানা যায়, আন্দোলনকারীরা সেনাপ্রধানের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সেনাপ্রধান তাদের কাছে দুর্গা প্রসাই নামে এক বিতর্কিত ব্যবসায়ী-রাজনীতিবিদের সঙ্গে আলোচনা করার প্রস্তাব দেন এবং রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিকে (আরএসপি) আন্দোলনের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। এতে আন্দোলনকারীরা নিজেদের আন্দোলনের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করেন।

রক্ষা বম নামে এক বিক্ষোভকারী সামাজিক মাধ্যমে তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “সেনাপ্রধান আমাদের দুর্গা প্রসাদ এবং আরএসপি-র সঙ্গে আলোচনা করতে বলেছেন। তিনি নিজেই তাদের আন্দোলনের অংশীদার বলেছেন। আমরা মনে করি, এটি আমাদের Gen-Z আন্দোলনের ত্যাগ এবং দেশ পরিবর্তনের ঐতিহাসিক যাত্রাকে অসম্মান করেছে।”

বালেন্দ্রর বদলে এখন সুশীলা কার্কিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চায় Gen-Z

কেপি শর্মা অলির পদত্যাগের পর বিক্ষোভকারীরা প্রথমে কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বালেন্দ্র সাড়া না দেওয়ায়, এখন তাদের লক্ষ্য পাল্টেছে।

বুধবার অনুষ্ঠিত প্রায় ৫ হাজার বিক্ষোভকারীর এক ভার্চুয়াল বৈঠকে দেশের পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নাম উঠে এসেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আন্দোলনকারী সুশীলা কার্কিকে সমর্থন জানিয়েছেন। এই বৈঠকে আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় আসে, যার মধ্যে রয়েছেন কুলমান ঘিসিং, সাগর ঢাকাল এবং ধারান শহরের মেয়র হার্কা সামপাং।

নেপালি সংবাদমাধ্যমকে এক বিক্ষোভকারী জানিয়েছেন, “বালেন্দ্র শাহ যেহেতু আমাদের ডাকে সাড়া দেননি, তাই আমরা এখন অন্য নামের দিকে ঝুঁকেছি। আমাদের বেশিরভাগই সুশীলা কার্কিকে সমর্থন করেছেন।”

এই ঘটনাগুলো নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাইরে এসে Gen-Z প্রজন্ম নতুন এবং স্বাধীন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।