নেপালে বিক্ষোভের আগুন! নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরও অব্যাহত সহিংসতা, নিহত ২১

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নেপালে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। সোমবার গভীর রাতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরও মঙ্গলবারও উত্তাল ছিল নেপালের বিভিন্ন অঞ্চল। ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে গুলি চালিয়েছে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতেও ভাঙচুর করেছে। এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন।
নেপালে ফেসবুক, ইউটিউব, এবং এক্স-এর মতো সামাজিক মাধ্যমগুলো নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে ছাত্র-যুবরা রাস্তায় নেমে আসে। সোমবার এই বিক্ষোভ চরম রূপ ধারণ করে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার চাপের মুখে সোমবার গভীর রাতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।
কিন্তু সরকারের এই পদক্ষেপ সত্ত্বেও বিক্ষোভ থামেনি। বরং মঙ্গলবার নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ জনতা প্রেসিডেন্টের বাড়ির সামনে আগুন লাগিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গুলি চালিয়েছে, যেখানে একজন আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা এখন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছে।
এই অমানবিক ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করার পর চাপের মুখে আরও দুই মন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীও পদত্যাগ করেছেন।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে জনগণকে শান্ত থাকার অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং একটি অর্থপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আমি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা করছি।”