নেপালে নিখোঁজ পানিহাটির যুবক, সাত মাস পর খোঁজ মিললেও ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না কেন

সাত মাস আগে নিখোঁজ হওয়া পানিহাটির মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক অভিষেকের খোঁজ নেপালে মিললেও, সেখানকার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির কারণে তাঁর বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জেন-জি’র আন্দোলনের জেরে নেপালে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে অভিষেকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং বর্তমানে তিনি কোথায়, কী অবস্থায় আছেন, তা জানা যাচ্ছে না।
অভিষেকের পরিবার এবং হ্যাম রেডিয়ো ক্লাব উভয়েই তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত। হ্যাম রেডিয়োর ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লাবের সম্পাদক অম্বরীশ নাগ ইতিমধ্যে কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন।
কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন অভিষেক?
পানিহাটি পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী অভিষেক ঘোষ গত ২৮ জানুয়ারি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তাঁর একমাত্র বোন রুমকিও মানসিক ভারসাম্যহীন। তাঁদের মা-বাবা কয়েক বছর আগেই মারা গিয়েছেন। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর, ২২ ফেব্রুয়ারি রুমকি ঘোষ ঘোলা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তবে পুলিশও তাঁর কোনো হদিশ পায়নি।
হ্যাম রেডিয়োর সাহায্যে খোঁজ মেলে
প্রায় ২০ দিন আগে নেপালের এক হ্যাম রেডিয়ো সদস্য ওয়েস্ট বেঙ্গল হ্যাম রেডিয়ো ক্লাবের সম্পাদক অম্বরীশ নাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, বাংলার এক যুবক সেখানকার একটি হোমে রয়েছেন। এরপর অম্বরীশ নাগ অভিষেকের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হন যে তিনি পানিহাটির বাসিন্দা। ভিডিও কলে তাঁর বোনের সঙ্গেও কথা বলানো হয়। এরপরই অভিষেককে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। নেপাল কনস্যুলেট সবরকম সহযোগিতার আশ্বাসও দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সব চেষ্টা থমকে গেছে।
অম্বরীশ নাগ বলেন, “আমরা ওকে নেপাল থেকে আনার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ছেলেটি কোথায়, কেমন আছে, তা আমরা জানতে পারছি না। আমরা চাই, ভারত সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিক এবং ছেলেটি সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরে আসুক।” প্রশাসনও জানিয়েছে, যুবককে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সবরকম উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশে ফিরলে অভিষেকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।