প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র ভারত ও নেপালের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন করে স্বস্তির হাওয়া। নেপাল থেকে আমদানি করা চায়ের ওপর বাধ্যতামূলক ল্যাবরেটরি পরীক্ষার (Laboratory Testing) যে কড়া নিয়ম জারি ছিল, তা সাময়িকভাবে শিথিল করার বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারত সরকার। নয়াদিল্লির এই সবুজ সংকেতের ফলে হিমালয়ের কোলের দেশ নেপালের চা ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের বড়সড় উদ্বেগ এক ঝটকায় কেটে গেল। এর ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কী ছিল বিতর্ক? কেন ক্ষুব্ধ ছিল কাঠমান্ডু?
গত কয়েক মাস ধরে ভারত সরকার গুণমান বজায় রাখার স্বার্থে নেপাল থেকে আসা সমস্ত চায়ের ওপর কড়া ল্যাবরেটরি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছিল। ভারতের চা পর্ষদ (Tea Board of India) ও খাদ্য নিয়ামক সংস্থা ‘এফএসএসএআই’ (FSSAI)-এর নিয়ম অনুযায়ী, এই পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ভারতীয় বাজারে নেপালি চা প্রবেশ করতে পারছিল না। এর ফলে সীমান্তে শত শত চায়ের ট্রাক আটকে পড়ায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন নেপালের ব্যবসায়ীরা। কাঠমান্ডু প্রশাসন এই নিয়ে নয়াদিল্লির কাছে বারবার দরবারও করেছিল।
ভারতের এই বড় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী কারণ?
কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্তরে আলোচনার পর ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশের সদিচ্ছা এবং অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে নিয়মে বড় ছাড় দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মূল দিকগুলি হলো:
সাময়িক স্বস্তি: নেপালের বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত চা বাগানগুলি থেকে আসা চায়ের ক্ষেত্রে আপাতত বাধ্যতামূলক ল্যাব টেস্টের নিয়ম শিথিল করা হচ্ছে।
সহজ ছাড়পত্র: সীমান্ত শুল্ক দফতরে (Customs) পরীক্ষার নামে দীর্ঘ সময় অপচয় বন্ধ হবে, যার ফলে দ্রুত ভারতীয় বাজারে পৌঁছাতে পারবে নেপালি চা।
দার্জিলিং চায়ের সঙ্গে ভারসাম্য: ভারতে নেপালি চায়ের অবাধ প্রবেশ নিয়ে দার্জিলিংয়ের চা উৎপাদকদের একাংশের আপত্তি থাকলেও, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেই এই ভারসাম্যমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
বাণিজ্যিক মহলের বক্তব্য: “ভারত সবসময়ই নেপালের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। চায়ের পরীক্ষা শিথিল করার এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে নয়াদিল্লি প্রতিবেশী প্রথম (Neighbourhood First) নীতিকে কতটা গুরুত্ব দেয়। এর ফলে দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্যের জটিলতা অনেকটাই কমবে।”
খুশির হাওয়া নেপালের চা মহলে
নয়াদিল্লির এই ইতিবাচক বার্তার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে নেপালের চা উৎপাদনকারী অ্যাসোসিয়েশন। ভারতের বাজারে নেপালি চায়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে ব্লেন্ডিং বা মিশ্রণের কাজে এই চা প্রচুর ব্যবহৃত হয়। ভারতের এই ছাড়ের পর নেপাল থেকে পুনরায় বিপুল পরিমাণ চা আমদানি শুরু হবে, যা নেপালের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে নতুন অক্সিজেন দেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





