নেদারল্যান্ডসেও বাংলার ঝালমুড়ি! প্রবাসী ভারতীয়দের মাঝে হঠাৎ কেন এই মন্তব্য করলেন মোদী?

দেশের মাটিতে লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের উত্তপ্ত পর্ব শেষ হতেই পাঁচ দেশের সফরে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্তমানে তাঁর সফরসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য নেদারল্যান্ডস। তবে দেশ ছাড়লেও অবচেতন মন থেকে যে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনের স্মৃতি এবং বাংলার স্বাদ এখনও মুছে যায়নি, তারই এক মজার প্রমাণ মিলল ইউরোপের মাটিতে।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে প্রবাসী ভারতীয়দের মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানাতে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ। মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী যখন ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচন এবং দেশজুড়ে বিপুল সংখ্যায় সাধারণ মানুষের ভোটদানের প্রশংসা করছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা।

উপস্থিত জনতার মধ্যে থেকে একদল অতি-উত্সাহী সমর্থক এমনভাবে স্লোগান দিতে শুরু করেন, যা সাধারণত বাংলার ভোটের ময়দানেই বেশি দেখা যায়। সমর্থকদের এই প্রবল উন্মাদনা দেখে নিজের বক্তব্য থামিয়ে মৃদু হাসেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই স্বভাবসুলভ রসিকতার সুরে সরাসরি মাইক্রোফোনে বলে ওঠেন, “ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গেল নাকি!”

প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়ে হুট করে ‘ঝালমুড়ি’র কথা শুনে মুহূর্তের মধ্যে গোটা সভাগৃহে হাসির রোল ওঠে। প্রবাসীরা করতালিতে ভরিয়ে দেন হলঘর।

আসলে এই ঝালমুড়ি মন্তব্যের পেছনে রয়েছে এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। গত এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝাড়গ্রামে যাওয়ার পথে আচমকাই গাড়ি থামিয়ে রাস্তার ধারের এক দোকান থেকে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়। পরবর্তীতে কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়ে মোদী বলেছিলেন, “ঝালমুড়ি খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের!”

রাজনৈতিক মহলের মতে, ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়েও সেই ঝালমুড়ির প্রসঙ্গ টেনে আনা মোদীর সুপরিকল্পিত জনসংযোগের অংশ। তিনি বোঝাতে চাইলেন, সাতসমুদ্র তেরো নদী পার হলেও প্রবাসীদের মনের গভীরের ভারতীয়ত্ব ও আঞ্চলিক আবেগ একই রকম রয়ে গেছে। আর সেই আবেগকে ছুঁতেই এই হালকা চালের মন্তব্য, যা ইতিমধ্যেই ডেইলিয়ান্টসহ সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy