“নেত্রীর ডাকেও সাড়া নেই!”-মাত্র ২০ বিধায়ককে নিয়ে বৈঠক বাতিলের পর বড় ঘোষণা তৃণমূলের

তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে ডাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে বাধ্য হলেন নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, রবিবার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিধায়কদের এমন নজিরবিহীন অনুপস্থিতিতে অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। সূত্রের খবর, মাত্র ২০ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকে, আর অনুপস্থিত ছিলেন প্রায় ৬০ জন বিধায়ক। ফলে বৈঠকটি বাতিল করতে হয়।

কেন এই বিপুল অনুপস্থিতি? এদিনের বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন অভিজ্ঞ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। প্রায় সাত দিন আগেই এই বৈঠকের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছিল। এত বড় ব্যবধানেও বিধায়কদের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

তবে এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি দাবি করেন, দলের অন্দরে ভাঙনের কোনো বিষয় নেই। বরং পরিস্থিতির কারণেই বিধায়করা আসতে পারেননি। কুণাল ঘোষ বলেন, “শনিবার সোনারপুরে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা এবং রবিবার সকালে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আক্রমণের ঘটনার জেরে বিধায়করা নিজ নিজ এলাকায় চরম ব্যস্ত। বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা, আটক ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় পরিস্থিতি উত্তপ্ত। তাই বিধায়করা নিজেরাই এই সভা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন।”

মমতার পরবর্তী রণকৌশল বৈঠক বাতিল হলেও শাসকদল হাত গুটিয়ে বসে থাকছে না। বরং সোমবার থেকেই পথে নামছে ঘাসফুল শিবির। কুণাল ঘোষের ঘোষণা অনুযায়ী:

  • প্রতিবাদ মিছিল: অভিষেক ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যজুড়ে প্রতিটি ওয়ার্ড ও এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল করবে তৃণমূল।

  • মমতার অবস্থান-বিক্ষোভ: হকার উচ্ছেদ, দলীয় কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাস ও সাংসদদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগামী মঙ্গলবার রানি রাসমণি রোডে একদিনের অবস্থান-বিক্ষোভ করবেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিনের বৈঠকে কুণাল ঘোষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র, রুকবানুর রহমান, অশোক দেব এবং গুলশন মল্লিক। বৈঠকে শেষ পর্যন্ত কী কৌশল নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।