নীল-কালো নয়, সবুজ কালির সই কেন করেন গেজেটেড অফিসাররা? এর পিছনে লুকিয়ে আছে বিশেষ প্রথা ও ক্ষমতা

ভারতে গেজেটেড অফিসার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে সবুজ কালির কলম ব্যবহার করা একটি প্রচলিত রীতি। যদিও এটি কোনো আনুষ্ঠানিক বা কঠোর নিয়ম নয়, তবুও এই রঙের কালি তাঁদের স্বাক্ষরের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ‘কর্তৃত্ব’ এবং ‘চূড়ান্ত অনুমোদন’কে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
এই রীতিটি মূলত নির্দিষ্ট বিভাগগুলিতে কোনো ফাইল বা নথিতে চূড়ান্ত অনুমোদন বা ছাড়পত্র বোঝাতে এবং সাধারণ কর্মচারীর স্বাক্ষর থেকে আলাদা করতে সাহায্য করে।
সবুজ কালির ব্যবহারের তাৎপর্য
১. কর্তৃত্ব বোঝানো: এই কালির ব্যবহার সাধারণত গেজেটেড অফিসারদের (যেমন যুগ্ম সচিব স্তরের উপর) জন্য সংরক্ষিত। এই কালি তাঁদের একটি বিশেষ অবস্থান এবং নথিতে অনুমোদনের ক্ষমতা নির্দেশ করে।
২. সাধারণ স্বাক্ষরের পার্থক্য: সবুজ কালি ব্যবহার করে বোঝানো হয় যে ফাইল বা নথিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন বা ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ কর্মচারী বা কর্মকর্তার কালো বা নীল কালির স্বাক্ষর থেকে আলাদা। এটি স্বাক্ষরটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
বিভিন্ন বিভাগ ও নিয়ম
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সকল কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সাধারণত কালো বা নীল কালি ব্যবহার করতে হয়। সবুজ কালির ব্যবহার একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রথা হিসেবেই প্রচলিত এবং এটি নির্দিষ্ট বিভাগ বা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে।
সরকারি হাসপাতাল: একজন ডাক্তার শুধুমাত্র হাসপাতাল বা পিএইচসি প্রাঙ্গণে থাকাকালীন সবুজ কালিতে স্বাক্ষর করতে পারেন।
অন্যান্য বিভাগ: অন্যান্য অনেক সরকারি বিভাগে, সবুজ কালির ব্যবহার একটি ঐতিহ্য বা প্রথা হিসেবেই রয়ে গেছে, যেখানে গেজেটেড অফিসাররা তাঁদের স্বাক্ষর এই কালিতে করে থাকেন।
লাল কালির ব্যবহার
অন্যান্য রঙের মধ্যে, লাল কালি সাধারণত সংশোধন বা বিশেষ নোটেশনের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এর ঐতিহাসিক ব্যবহারও রয়েছে:
গোয়েন্দা বিভাগ: যুদ্ধের সময় বা জরুরি পরিস্থিতিতে সেন্সর করার জন্য গোয়েন্দা কর্মকর্তারা লাল কালি ব্যবহার করতেন।
সবুজ কালির ব্যবহারকে কেন্দ্র করে এই প্রথাটি আজও দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আধিকারিকদের একটি বিশেষ মর্যাদার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।