নীট কেলেঙ্কারিতে নীরবতা ভাঙলেন মোদী! পর্দার পিছনের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি!

দেশজুড়ে আলোচিত ও বিতর্কিত নীট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং দুর্নীতি কান্ড নিয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে কোনো জনসভায় প্রকাশ্যে নয়, বরং মঙ্গলবার সংসদ ভবনে আয়োজিত এনডিএ-র সংসদীয় কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন বৈঠকে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা সরাসরি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোরগোল শুরু হয়েছে।

সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনডিএ-র রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, নীট প্রশ্নফাঁসের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘটনাটি নিছক কোনো নির্দিষ্ট রাজ্য সরকার কিংবা কেন্দ্রের একলার বিষয় নয়, এটি সম্পূর্ণ একটি সর্বভারতীয় ও জাতীয় সমস্যা। এই জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ক্ষুদ্র দলীয় রাজনীতি বা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবাঞ্ছিত। দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং পরীক্ষার্থী যুবসমাজ ও তাদের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সর্বাগ্রে প্রাধান্য। পাশাপাশি, এই নক্কারজনক প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা যুক্ত রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোরতম আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও জোরালো বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য এমন এক সংকটময় দিনে সামনে এল, যেদিন দিল্লির যন্তর মন্তরে সংঘটিত রোমহর্ষক ও হিংসাত্মক ঘটনার জেরে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। উল্লেখ্য, সোমবার রাজধানীর বুকে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ‘কক্রোচ জনতা পার্টি’-র ব্যানারে আয়োজিত সেই সংসদ অভিযান চলাকালীন আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ, জলকামান এবং নির্বিচারে নিক্ষিপ্ত কাঁদানে গ্যাসের জেরে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই পুলিশি দমনের ভয়াবহ ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। সরকারি হাসপাতাল সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের ওই সংঘর্ষে আন্দোলনকারী ও পথচারী মিলিয়ে প্রায় ১৭০ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন পুলিশ কর্মীও রয়েছেন। পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছোঁড়ার পালটা অভিযোগে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ওয়াকিবহল মহলের মতে, সাম্প্রতিক অতীতে রাজধানীর বুকে এমন নৃশংস পুলিশি অভিযানের নজির খুব একটা দেখা যায়নি। বিরোধী শিবিরের একাধিক সাংসদ ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংসদের অন্দরে এই নির্মম পুলিশি নির্যাতন নিয়ে জরুরি আলোচনার তীব্র দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, সংসদ অভিযানের মূল আয়োজক ‘কক্রোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিনিধি দল সোমবারই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করে তাদের সুনির্দিষ্ট তিন দফা দাবি পেশ করেছিল। সে সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁদের কথা patiently শুনে দাবিগুলি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। তবে মঙ্গলবার সকালেই চরম হতাশা প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে আন্দোলনকারী দল। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ চার ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ মিললেও শেষ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। সরকারের এই অনমনীয় নীরবতায় তাঁদের সমস্ত প্রচেষ্টাই জলে গেছে।

উল্লেখ্য, আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে মূলত তিনটি কঠোর দাবি রাখা হয়েছিল। প্রথমত, পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট গুরুতর দুর্নীতির দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ। দ্বিতীয়ত, প্রশ্নফাঁসের মানসিক চাপ ও হতাশায় আত্মঘাতী হওয়া প্রতিটি নীট পরীক্ষার্থীর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ স্বরূপ এক কোটি টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান। এবং তৃতীয়ত, সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতাল থেকে অবিলম্বে রিলিজ দিয়ে পুনরায় যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ অনশনে বসার অনুমতি প্রদান। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই অন্তর্বর্তী বার্তা এবং বিরোধী শিবিরের লাগাতার চাপের মুখে আগামী দিনে কেন্দ্র সরকার এই সংকটের কী সুনির্দিষ্ট সমাধান সূত্র বের করে, এখন সেটাই দেখার।