অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই চরম ট্র্যাজেডির শিকার অর্চনা! স্বামীর কোন নিষ্ঠুর মন্তব্যে ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী?

জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও রিয়্যালিটি শো বিচারক অর্চনা পূরণ সিংয়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বামী পরমিত শেঠির সঙ্গে সুখী ও হাসিখুশি দাম্পত্য জীবন কাটানোর ছবি সকলের নজর কাড়লেও, তাঁদের এই পথচলা একেবারেই মসৃণ ছিল না। সম্প্রতি এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে অর্চনা তাঁর জীবনের এমন এক অন্ধকার অধ্যায়ের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন, যা শুনলে যেকোনো মানুষের বুক কেঁপে উঠবে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁর ওপর দিয়ে যাওয়া মর্মান্তিক শারীরিক ও মানসিক ঝড়ের কথা জেনে রীতিমতো অবাক ও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন তাঁর অগুনতি অনুরাগীরা।

অভিনেত্রীর অকপট স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বিয়ের ঠিক চার বছর মাথায় তিনি প্রথমবার গর্ভধারণ করেছিলেন। সেই সময়ে পেশাগতভাবে তিনি একটি সিনেমার শুটিংয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে শুটিং সেটে কাজ চলাকালীনই তাঁর জীবনে নেমে আসে এক বড় বিপর্যয়। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে হঠাৎই তাঁর গর্ভপাত ঘটে যায়। সেই কঠিন সময়ে তাঁর বয়স ছিল মাত্র চৌত্রিশ বছর। একজন নারী হিসেবে মানসিকভাবে মাতৃত্বের জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও, সেই আকস্মিক সন্তান হারানোর তীব্র শোক তাঁকে এক গভীর অন্ধকারের অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছিল। কিন্তু সেই চরম দুর্দিনে স্বামীর কাছ থেকে যে ধরণের মানসিক সান্ত্বনা ও সহযোগিতার প্রত্যাশা তিনি করেছিলেন, তা তিনি পাননি। উলটো দিকে, পরমিত শেঠি সেই সময়ে পিতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মানসিকভাবে বিন্দুমাত্র প্রস্তুত ছিলেন না। স্ত্রীর সেই অসহনীয় কষ্ট ও কান্নার মাঝেও পরমিত সরাসরি বলে বসেছিলেন যে, তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদৌ কোনো সন্তানের কোনো প্রয়োজনই নেই! স্বামীর এই উদাসীন ও নিষ্ঠুর মন্তব্য মানসিকভাবে তাঁকে এক চরম একাকীত্বের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল।

তবে এখানেই শেষ নয়। পরবর্তীকালে যখন তিনি আবারও মা হওয়ার জন্য প্রস্তুত হন, সেই গর্ভাবস্থার শুরুর মাসগুলিতেও তাঁকে এক ভয়ঙ্কর শারীরিক ও মানসিক লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। গর্ভাবস্থার প্রথম পর্যায়ে তীব্র শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি কার্যত শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন। অসুস্থতার জেরে তাঁর শরীরের ওজনও আশঙ্কাজনকভাবে অনেকটাই কমে গিয়েছিল। কিন্তু জীবনের সেই সংকটজনক ও ভঙ্গুর মুহূর্তেও তিনি স্বামীর কাছ থেকে কোনো কাঙ্ক্ষিত সাহায্য বা মানসিক সমর্থন পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। বরং অর্চনা যখন বিছানায় শয্যাশায়ী, তখন পরমিত নিজের মতো করে খেলাধুলা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং সামাজিক নানা কার্যকলাপে মেতে থাকতেন। স্বামীর এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ তাঁর সেই দিনগুলিকে আরও বেশি যন্ত্রণাদায়ক ও অসহনীয় করে তুলেছিল।

যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরমিত শেঠি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন। জীবনের সেই কঠিন সময়ে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করতে না পারার কারণে তিনি যে স্ত্রীর পাশে ঠিকমতো দাঁড়াতে পারেননি, পরবর্তীকালে অভিনেতা তা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন। অতীতের সেই তিক্ততা, অবহেলা এবং মানসিক যন্ত্রণার সমস্ত ঝড়ঝাপটা সফলভাবে পার করে এই তারকা দম্পতি আজ দীর্ঘ দাম্পত্যের দীর্ঘ পথে একে অপরের নিখুঁত পরিপূরক হয়ে উঠেছেন।