একুশের মেনু বদলাল নাকি অপরিবর্তিত রইল? তৃণমূলের ‘শহিদ দিবস’-এর খাওয়াদাওয়া নিয়ে মেগা আপডেট!

গত এক বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে এবং সাংগঠনিক কাঠামোগত বিন্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আর তার হাত ধরেই বদলে গিয়েছে দীর্ঘদিনের প্রথাগত একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সামগ্রিক আয়োজনও। গত বছর পর্যন্ত ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউজের সামনে যে ঐতিহাসিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হত, এ বছর রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে সেখানে তৃণমূলের দুটি ভিন্ন শিবির আলাদাভাবে আয়োজন করেছে। দলের এই ভাঙন ও পরিবর্তন রাজ্য রাজনীতিতে যেমন আলোড়ন তুলেছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—নেতৃত্ব ও মঞ্চ বদলালেও কি একুশে জুলাইয়ের ঐতিহ্যবাহী মেনুতেও বড়সড় কোনো পরিবর্তন এসেছে?

অতীতে প্রতিবারই একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে যোগ দিতে সুদূর জেলা থেকে আসা হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের খাওয়া-দাওয়ার এলাহি আয়োজন করা হতো। সেই খাবারের পাতে সবথেকে বড় এবং প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকত সকলের প্রিয় ‘ডিম-ভাত’। শহিদ সমাবেশের এই ডিম-ভাত সংস্কৃতি নিয়ে অতীতে বিরোধীরাও কম কটাক্ষ বা রাজনৈতিক আক্রমণ শানায়নি। তবে এতকিছুর পরেও একুশ জুলাইয়ের দুপুরের ঐতিহ্যবাহী মেনুতে ডিম-ভাতের উপস্থিতি যে এক চুলও নড়চড় হয়নি, তা এদিনের ব্যবস্থাপনায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও তৃণমূলের পক্ষ থেকে দলের কর্মী-সমর্থকদের থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থার জন্য কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে এ বছর ঋতব্রত পন্থী তৃণমূল শিবির কর্তৃক ভাড়া নেওয়া এই কেন্দ্রে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। সমাবেশের দিন সকালেও ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বিশাল চত্বরে হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন কর্মী-সমর্থককে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সার্বিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এ দিন সবমিলিয়ে মোটে এক হাজার জনের মতো মানুষের জন্য রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

এ দিন দুপুরের রান্নার মেনুতে চোখ রাখলে দেখা যায়, ঐতিহ্য বজায় রেখে আজও সেখানে ডিম-ভাতই প্রস্তুত করা হয়েছে। নব তৃণমূলের এই শিবিরে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের দুপুরের পাতে গরম ভাতের সঙ্গে ডাল, আলু-সয়াবিনের সুস্বাদু তরকারি এবং তার সঙ্গে পাতে দুটি করে সেদ্ধ বা কষা ডিম পরিবেশন করা হচ্ছে। তবে বিগত বছরগুলিতে যেখানে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে তিল ধারণের জায়গা থাকত না এবং হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে খেতেন, সেখানে এ দিন মাত্র জনা কুড়ি সমর্থককে সেই ডিম-ভাত খেতে দেখা গিয়েছে। রাজনৈতিক দলবদলের এই হাওয়ায় কর্মীদের এই জনস্রোত কমে যাওয়া এবং থমথমে পরিবেশই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির আসল ছবিটা তুলে ধরেছে।