২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে বইছে টানটান উত্তেজনার হাওয়া। একদিকে যখন বিজেপি সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে মগ্ন, ঠিক তখনই পাল্টা চাল দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ফলাফল নিয়ে তাঁর দল এবার দেশের শীর্ষ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে।
সুপ্রিম কোর্টে কেন তৃণমূল? নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল। বিশেষ করে ইভিএম (EVM) এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বারবার সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বহু কেন্দ্রে পরিকল্পিতভাবে জনমতকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এই ‘অগণতান্ত্রিক’ জয়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করতে কোমর বাঁধছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রের খবর, গণনা প্রক্রিয়ায় কারচুপি এবং বিশেষ কিছু কেন্দ্রে পুনর্গণনার দাবি নিয়ে শীঘ্রই মামলা দায়ের করা হতে পারে।
রবীন্দ্র জয়ন্তী ও মমতার বিশেষ নির্দেশ: শপথ গ্রহণ বা রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই সামনে ২৫-এ বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রতি বছরই রাজ্যে বড় মাপের অনুষ্ঠান হয়। তবে এবারের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তৃণমূল কর্মীদের জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। তিনি জানিয়েছেন:
শান্তিপূর্ণভাবে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন করতে হবে।
বিজেপির ‘বিজয় উৎসব’ বা শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে কোনও প্ররোচনায় পা দেওয়া যাবে না।
শোভাযাত্রা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা দিতে হবে।
আইনি লড়াই চলাকালীন কর্মীদের সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
পাল্টা আক্রমণে বিজেপি: মমতার এই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি শিবির। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মতে, “মানুষের রায় মেনে নিতে না পেরেই এখন আদালতের দরজায় কড়া নাড়ছে তৃণমূল। এতে কোনও লাভ হবে না।”
একদিকে যখন রবীন্দ্র জয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে ব্রিগেডে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের প্রস্তুতি তুঙ্গে, তখন মমতার এই আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা বঙ্গ রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। লড়াই যে কেবল ভোটের ময়দানে শেষ হচ্ছে না, বরং তা এবার আদালতের বারান্দাতেও গড়াতে চলেছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদনে সাড়া দেয় কি না।





