পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ফল প্রকাশ হতেই রাজ্য রাজনীতিতে বইছে প্রবল ঝঞ্ঝা। জেলায় জেলায় গেরুয়া ঝড়ের দাপটে তৃণমূলের কার্যত শোচনীয় পরাজয় ঘটলেও, এই ফলাফলকে মানতে নারাজ বিরোধী শিবির। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে এবার সরাসরি তোপ দাগলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা ‘আসন চুরি’র অভিযোগে এবার সিলমোহর দিলেন রাহুলও, যা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
মমতা-রাহুল ফোনালাপ ও দিল্লির রণকৌশল
সূত্রের খবর, বাংলার নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন রাহুল গান্ধী। মমতা অভিযোগ করেছিলেন যে, নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ মদতে বিজেপি অন্তত ১০০টি আসন ‘লুট’ করেছে। রাহুল গান্ধী এই অভিযোগের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিনের সঙ্গেও এই বিষয়ে কথা বলেন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুত্বর যে, তৃণমূল নেত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাহুল। ভোট লুর্তের এই অভিযোগে শান দিতে আগামী সপ্তাহেই দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া জোট’-এর মেগা বৈঠক ডাকতে চলেছে কংগ্রেস। অসম, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর ভোট প্রক্রিয়ায় কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে প্রচারের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হবে এই বৈঠকে।
কালীঘাটে মমতার হুঙ্কার
গতকাল ফল প্রকাশের মাঝেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনাকেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর দাবি, “বিজেপি জোর করে ১০০টি আসন লুট করেছে। আমাকে মারধর করা হয়েছে, গায়ের জোরে হারানো হয়েছে।” তবে পরাজয় স্বীকার না করে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমি আবার ফিরে আসব।” এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে? আজই ফয়সালা
অন্যদিকে, জয়ের আনন্দে ভাসছে বিজেপি শিবির। বাংলায় পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা ঠিক করতে আজই কলকাতায় আসছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বর্ষীয়ান নেতা রাজনাথ সিংকে। সঙ্গে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিকেলের হাইভোল্টেজ বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হতে পারে। ৯ মে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিরোধী জোটের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ আর বিজেপির ‘শপথের প্রস্তুতি’—সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতি এখন আগ্নেয়গিরির শিখরে।





