নির্বাচন কমিশনের ‘ডিজিটাল’ কারচুপি? দিল্লির বুকে ‘মৃত’ বাঙালিদের নিয়ে গর্জে উঠলেন মমতা!

সোমবারের পর মঙ্গলবার—দিল্লির রাজনৈতিক ময়দানে এসআইআর (SIR) ইস্যুতে আক্রমণের ঝাঁঝ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিশানায় এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ‘প্রযুক্তিগত কারসাজি’। দিল্লির বঙ্গ ভবনে আয়োজিত এক আবেগঘন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা অভিযোগ করেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI) ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বাংলার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এদিন তাঁর পাশে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এসআইআর তালিকায় ‘মৃত’ বলে ঘোষিত অথচ বাস্তবে জীবিত বেশ কয়েকজন সদস্য।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বিঁধে বলেন, “এআই দিয়ে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এটা এক ভয়াবহ চক্রান্ত।” তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে যাতে বিরোধীদের ভোটব্যাঙ্ক তছনছ করে দেওয়া যায়। সাংবাদিক বৈঠকে এসআইআর আতঙ্কে মৃত পরিবারের সদস্যদের সামনে এনে মমতা বলেন, “দিল্লিতে আমি বাংলার মেয়েদের হয়ে কথা বলতে এসেছি। আমাদের ঘরের মেয়েদের ওপর যে অত্যাচার হচ্ছে, তার বিচার চাই।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরসঙ্গী হিসেবে দিল্লিতে উপস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এদিন তাঁদের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন। তালিকায় নাম না থাকায় বা ‘মৃত’ বলে দাগিয়ে দেওয়ায় যে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে তাঁদের, তা শুনে মমতা ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়বেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এদিন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মঙ্গলবারের এই বৈঠকের পর এটা স্পষ্ট যে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনকে জাতীয় স্তরে এক নতুন মাত্রা দিতে চলেছেন মমতা, যেখানে খোদ রাজধানীতে দাঁড়িয়ে কমিশনের ‘ডিজিটাল গাফিলতি’ নিয়ে সুর চড়ালেন তিনি।