‘শহর ও সমাজের স্বার্থে সব ত্যাগ করতে প্রস্তুত!’ মহাসড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হতেই নজির গড়লেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী

২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার ঐতিহাসিক প্রস্তুতি এবং শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে এক বিশাল সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। খাজুর ওয়ালি মসজিদ থেকে আবদলপুরা ও জিওয়াজিগঞ্জ থানা হয়ে গণেশ চক পর্যন্ত প্রস্তাবিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৯.৮০ কোটি টাকা। এই উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রায় ২৭২টি ভবন অপসারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে খোদ মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ড. মোহন যাদবের শৈশবের পৈতৃক বাড়িটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শহরের উন্নয়নের স্বার্থে নজিরবিহীন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে পূজা অর্চনার পর নিজের পৈতৃক বাড়িটি ভেঙে ফেলার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উন্নয়নের এই মহাপরিকল্পনায় ব্যক্তিগত আবেগকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানান যে, শহরবাসীর কল্যাণে এবং ২০২৮ সালের সিংহস্থ উৎসবের সফল আয়োজনের জন্য সমাজ ও প্রশাসনের বৃহত্তর স্বার্থে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “যে জন্মভিটেয় আমার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে, তার প্রতি আমার গভীর আবেগ রয়েছে। কিন্তু শহরের সার্বিক উন্নয়ন এবং সরকারের নির্ধারিত নিয়মকানুন ও নির্দেশিকা বজায় রাখতে ব্যক্তিগত স্বার্থকে সবসময় পেছনে রাখাই একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত কর্তব্য। আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট যে এই মহাযজ্ঞের সূচনা আমার বাড়ি থেকেই হচ্ছে।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, খাজুর ওয়ালি মসজিদ থেকে গণেশ চক পর্যন্ত এই রাস্তাটি প্রশস্ত হলে সিংহস্থ কুম্ভ মেলায় আগত কোটি কোটি ভক্ত ও পর্যটকদের যাতায়াত অত্যন্ত সুগম হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের পর স্থানীয় বাসিন্দারাও উন্নয়নের স্বার্থে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসছেন এবং অনেকেই নিজেদের অবৈধ বা জবরদখল করা অংশ ভেঙে ফেলতে শুরু করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অভাবনীয় পদক্ষেপ শুধু উজ্জয়িনীর রূপরেখাই বদলে দেবে না, বরং জনমানসে উন্নয়নের জোয়ার আনতে এক শক্তিশালী ও ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা প্রেরণ করবে।