‘চিঠি নিয়ে মিথ্যে রটনা!’ SIR থেকে ক্যাবিনেট সচিবের চিঠি— সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে চূড়ান্ত সাফাই নির্বাচন কমিশনের!

নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য এবং ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো অভ্যন্তরীণ চিঠি ঘিরে দেশজুড়ে চলা তীব্র বিতর্কের আবহে এবার কঠোর অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। শনিবার নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরেই কমিশনের তরফে একটি বিস্তারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে সমস্ত জল্পনা ও সমালোচনার জবাব দেওয়া হয়েছে।
ক্যাবিনেট সচিবের চিঠি নিয়ে কমিশনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা: সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, দুই নির্বাচন কমিশনার ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি লিখে কমিশনের অন্দরে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত না মানার অভিযোগ তুলেছেন। এই প্রসঙ্গে কমিশনের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো ওই চিঠিটি কমিশন বা আইটি বিভাগের কোনো নীতিগত বিষয় সংক্রান্ত ছিল না। বরং ইসিআই-তে প্রেষণে (Deputation) কর্মরত এক কর্মকর্তার কাজের ভুলত্রুটি ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের নির্দেশ কার্যকর না হওয়া নিয়েই ওই চিঠি লেখা হয়েছিল। একইসঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আইটি বা অন্য বিভাগের উপর তদারকির ক্ষমতা কখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।
SIR প্রক্রিয়া ও ১৪ বার আপত্তির গুঞ্জন নিয়ে বক্তব্য: সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, গত ১০ মাসে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে দুই কমিশনার অন্তত ১৪ বার আপত্তি তুলেছিলেন। তবে কমিশন জানিয়েছে, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সহ ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ১২টি রাজ্যে ভোটার তালিকা প্রকাশের পর চূড়ান্ত উপস্থিতি জানা যাবে। মূল এসআইআর নির্দেশিকা ও ফর্ম-৬ সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা সুরক্ষিত ও অনুমোদিত বলেও মনে করিয়ে দিয়েছে কমিশন।
বৈঠকে গৃহীত ১৩টি প্রধান সিদ্ধান্ত: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কাজ আরও স্বচ্ছ করতে বৈঠকে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
বিএলওদের নতুন দায়িত্ব: এসআইআর প্রক্রিয়ায় নোটিশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে নথি সংগ্রহ করবেন বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO)। পাশাপাশি প্রয়োজনে অনলাইন শুনানির ব্যবস্থা করা হবে।
সহায়তা কেন্দ্র: জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা (DEO) রাত্রিকালীন আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দা, শ্রমিক, দরিদ্র ও গৃহহীন মানুষের সুবিধার্থে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করবেন।
ECINET পোর্টালের পর্যালোচনা: আইটি পরিকাঠামো আরও উন্নত করতে ইসিআইনেট (ECINET)-এর কাজকর্ম পর্যালোচনার জন্য সিনিয়র ডিইসি এবং আইআইটি/আইআইএম (IIT/IIM)-এর স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ ভোঁতা করে দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।