বৈশাখের তপ্ত রোদে পাল্লা দিয়ে চড়ছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের পারদ। তবে এই উত্তাপের মাঝেই এবার স্বস্তির খবর শোনাচ্ছেন খোদ ভোটকর্মীরা। নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে বাংলাকে। এবার রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করায় ভোটের ময়দানে নিরাপত্তা নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি নিশ্চিন্ত নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা।
বহরমপুরে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা নির্বাচনী আধিকারিক বেগম মেরির গলায় শোনা গেল সেই আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি বলেন, “এটি আমার দ্বিতীয়বারের ডিউটি। কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। চারপাশে কড়া নজরদারি আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতিতে আমরা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছি।” তাঁর এই মন্তব্যই বুঝিয়ে দিচ্ছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে কমিশন এবার কোমর বেঁধে নেমেছে।
মুর্শিদাবাদে নিরাপত্তার মহোৎসব:
শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদ জেলাতেই প্রায় ১৭০০ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগই সিআরপিএফ (CRPF)। বুথের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে দিনরাত টহল দিচ্ছে বাহিনী। অতীতে যেসব এলাকায় অশান্তির কালো মেঘ দেখা গিয়েছিল, সেখানে এবার বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই ‘এরিয়া ডমিনেশন’ সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা ফিরিয়েছে।
ভয়মুক্ত ভোটার ও সমন্বিত প্রশাসন:
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এবারের কড়াকড়ি চোখে পড়ার মতো। পরিচয়পত্র যাচাই থেকে শুরু করে বুথ সংলগ্ন ভিড় নিয়ন্ত্রণে জওয়ানরা সক্রিয়। এর ফলে মহিলা ও প্রবীণ ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছে প্রশাসন। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই বাড়তি নিরাপত্তাকে স্বাগত জানালেও শাসক দলের দাবি—রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে বলেই পরিবেশ এত শান্ত। সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর রেকর্ড উপস্থিতিতে এবারের ভোট উৎসব কতটা নির্বিঘ্ন হয়, সেটাই এখন দেখার।





