নিরামিষ বিতর্ক এড়াতে বড় পদক্ষেপ সরকারের! মিড ডে মিল নিয়ে নবান্ন থেকে কী জানানো হলো?

আগামী ১ আগস্ট থেকে কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল (Mid-Day Meal) সরবরাহের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। ইসকনের (ISKCON) নিরামিষ খাবার দেওয়া নিয়ে সম্প্রতি যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইসকনের সাত্ত্বিক আহারের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা এসএইচজি (SHG)-এর মাধ্যমে আলাদা করে ডিম দেওয়া হবে।

মিড ডে মিল নিয়ে নবান্নের বড় ঘোষণাগুলি:

  • বরাদ্দের বৈষম্য দূরীকরণ: এতদিন উচ্চ প্রাথমিক (Upper Primary) ও হাই স্কুলের ক্ষেত্রে মিড ডে মিলের বরাদ্দ প্রতি পড়ুয়াপিছু ১০ টাকা থাকলেও প্রাথমিক (Primary) স্কুলগুলিতে তা ছিল মাত্র ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। সেই দীর্ঘদিনের আর্থিক বৈষম্য মিটিয়ে এবার প্রাথমিক স্কুলগুলির ক্ষেত্রেও বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হলো।

  • ইসকনের মাধ্যমে পাইলট প্রজেক্ট: আগামী ১ আগস্ট থেকে কলকাতার একটি বড় অংশের স্কুলগুলিতে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ইসকনের হাত ধরে মিড ডে মিল পরিবেশন শুরু হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলেই এই পরিষেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

বিতর্কের জেরে সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত

২০২৬-২৭ সালের বাজেটে মিড ডে মিল পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। তবে ইসকনের রান্না করা খাবার সম্পূর্ণ নিরামিষ হওয়ায়, পড়ুয়ারা আমিষ খাবার বা পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হবে কি না—তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এমনকি এই বিষয়ে আইনি জট ও জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছিল।

এই সমস্ত বিতর্ক এবং পুষ্টিগত উদ্বেগ সম্পূর্ণ দূর করতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে, ইসকনের পুষ্টিকর নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে পৃথকভাবে ডিম সরবরাহ করা হবে। এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের সুষম ও সম্পূর্ণ আহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেই জানিয়েছে প্রশাসন।