নিঠারি হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কোহলি সম্পূর্ণ মুক্ত! ১৮ বছর পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ‘বেকসুর খালাস’

২০০৬ সালের ডিসেম্বরে নয়ডাকে কাঁপিয়ে দেওয়া নিঠারি হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কোহলির ১৮ বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে চলা ১৩তম ও শেষ মামলাটির সাজা বাতিল করে ‘অবিলম্বে মুক্তি’ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর আগে কোহলি বাকি ১২টি মামলাতেও নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলেন। আদালতের রায়ের পর সুরেন্দ্র কোহলি এখন আইনত সম্পূর্ণ মুক্ত মানুষ।
প্রধান বিচারপতি বি.আর. গাওয়াই, বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি বিক্রম নাথের বেঞ্চ এদিন এই ঐতিহাসিক রায় দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোহলির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। কেবল তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তি এবং রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ছুরির উপর ভিত্তি করে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা সঠিক ছিল না। আদালত জানায়, “পিটিশনার সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্ত। তাই তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক।”
২০০৬ সালের ডিসেম্বরে নয়ডার নিঠারিতে ব্যবসায়ী মনিন্দর সিং পান্ধেরের বাড়ির পেছনের নালা থেকে একে একে একাধিক শিশু ও কিশোরীর কঙ্কাল ও দেহাংশ উদ্ধার হয়। পুলিশ ও সিবিআই তদন্তে জানা যায়, বাড়ির গৃহকর্মী সুরেন্দ্র কোহলি দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার মতো নৃশংস কাজ করেছে। নিহতদের মধ্যে অনেকেই ছিল বাঙালি পরিবারের মেয়ে। দেশজুড়ে এই ঘটনা তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।
বিচারযাত্রার মোড়:
২০০৯–২০১৭: একের পর এক মামলায় কোহলিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
২০১১: একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টও মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।
২০১৫: ফাঁসির সিদ্ধান্তে বিলম্ব হওয়ায় হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আজীবন কারাদণ্ড দেয়।
২০১৭–২০২৪: ধীরে ধীরে ১২টি মামলায় প্রমাণের অভাবে কোহলি খালাস পান।
২০২৫: সর্বশেষ মামলাতেও সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মুক্তি পেলেন তিনি।
কোহলির মালিক মনিন্দর সিং পান্ধেরের বিরুদ্ধেও মানবপাচারের অভিযোগ আনা হলেও, তিনিও বেশিরভাগ মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন। দুই অভিযুক্তই এখন মুক্ত হলেও, নিঠারির নৃশংস শিশুহত্যার শিকার পরিবারগুলির কাছে ১৮ বছরের এই বিচারযাত্রা এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেল।