নিজের পাতা জালেই কি বন্দি ইরান? হরমুজ প্রণালীতে মাইন বিভ্রাটে ভেস্তে যেতে পারে ট্রাম্পের শান্তি চুক্তি!

হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড়সড় বিপাকে পড়েছে ইরান। ইসরায়েল ও আমেরিকার ওপর চাপ তৈরি করতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নির্বিচারে যে সামুদ্রিক মাইনগুলো ইরান পেতেছিল, এখন সেগুলিই তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, ইরান নিজেই জানে না কোথায় কত মাইন পাতা রয়েছে। আর এই প্রযুক্তিগত অক্ষমতার কারণেই ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি মেনে দ্রুত জলপথটি পুরোপুরি সচল করতে পারছে না তেহরান।
ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের উপস্থিতিতে যখন শান্তি আলোচনা শুরু হতে চলেছে, ঠিক তখনই এই ‘মাইন সংকট’ প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেলের যোগান নিয়ন্ত্রণকারী এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি নন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, আইআরজিসি অনিয়মিতভাবে মাইন ফেলায় অনেক মাইন স্থানচ্যুত হয়ে ভেসে গিয়েছে, যার কোনো রেকর্ড ইরানের কাছে নেই।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ‘প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার’ কথা স্বীকার করলেও, ওয়াশিংটনের দাবি—এটি আসলে মাইন অপসারণে ইরানের ব্যর্থতা। বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও দুই পক্ষই একে অপরের ওপর দোষারোপ জারি রেখেছে। যদি দ্রুত মাইন সরিয়ে নিরাপদ পথ তৈরি করা না যায়, তবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি ফের যুদ্ধের দামামা বাজার সম্ভাবনা প্রবল।