নিখুঁত পরিকল্পনায় বাজিমাত পূর্ব রেলের, খানা-রামপুরহাট সেকশনে সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ

যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপত্তার মানোন্নয়নে এক অনন্য নজির গড়ল পূর্ব রেল। খানা-রামপুরহাট (KAN-RPH) সেকশনে পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে যে জটিল ‘মেগা ব্লক’ নেওয়া হয়েছিল, তা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। হাওড়া ডিভিশনের রেলওয়ে ম্যানেজার বিশাল কাপুরের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ও ট্র্যাকশন ডিস্ট্রিবিউশন (TRD) টিমের নিরলস পরিশ্রমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই মহাযজ্ঞ শেষ হয়েছে।

ভোর ০৩:৫০ মিনিটে শুরু হওয়া এই ট্রাফিক ও পাওয়ার ব্লকটি সকাল ০৭:৩০ মিনিটের মধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। কাজের মান নিশ্চিত করার পর সকাল ০৮:০০টার মধ্যে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়, যাতে নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ ন্যূনতম থাকে। এই কম সময়ের মধ্যে এত বড় পরিকাঠামোগত কাজ শেষ করা রেলের পেশাদারিত্বেরই প্রমাণ।

রেল সূত্রের খবর, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এই সেকশনে ট্র্যাকের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পিএনই (PNE) ও কেপিএলই (KPLE) সেকশনে ৪ সেট টিডব্লিউ এসইজে (TW SEJ) বসানো, ১৭টি এসকেভি (SKV) জয়েন্ট ওয়েল্ডিং এবং ৬২.১০ মিটার রেল পরিবর্তন। এছাড়া ২৬০ ট্র্যাক মিটার প্যানেল রেল পরিবর্তন ও ১ জোড়া নতুন প্যানেল রেল স্থাপনের মাধ্যমে ট্র্যাকের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।

ট্র্যাকের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণেও জোর দেওয়া হয়েছে। টিআরডি (TRD) টিম ইলেকট্রিক লাইনের ব্যাপক ওভারহলিং করেছে। ১১টি এক্স/ও এওএইচ (X/O AOH), ৩টি টি/ও এওএইচ, ৫৯টি লোকেশন এওএইচসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিউট্রাল সেকশন এওএইচ, ৯৮টি সিএলএ (CLA), ১৪টি এসআই (SI) এওএইচ এবং ইনসুলেটর প্রতিস্থাপনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তার খাতিরে ৬টি পাখির বাসা অপসারণ করা হয়েছে এবং ৫১টি জাম্পার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া পোর্টাল আপরাইট ও বুম ইরেকশন এবং গান্ট্রির রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও নিরবচ্ছিন্ন করে তোলা হয়েছে।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, এই মেগা ব্লকের সফল সমাপ্তি একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ রেল পরিষেবা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পূর্ব রেলের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। খানা-রামপুরহাট সেকশনের এই আধুনিকীকরণ সম্পূর্ণরূপে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামদায়ক সফরের কথা মাথায় রেখেই করা হয়েছে। আধুনিক পরিকাঠামো এবং উন্নত বৈদ্যুতিক পরিষেবা পাওয়ার ফলে এখন থেকে এই রুটে যাত্রীদের ট্রেন সফর হবে আরও মসৃণ ও নির্ভরযোগ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy