নারী বিলে ‘ডিলিমিটেশন’ কাঁটা! মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক রুখতে মরিয়া বিরোধীরা, কী বলছে সংসদীয় অঙ্ক?

নির্বাচনী আবহে নারী ভোটারদের মন জয় করতে মোদী সরকার যখন ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিলকে তুরুপের তাস করতে চাইছে, ঠিক তখনই ডিলিমিটেশন (সীমানা নির্ধারণ) এবং আদমশুমারির ইস্যুতে পাল্টা ঘেরাও শুরু করল ‘ইন্ডিয়া’ জোট। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—সবাই এই বিলের অন্তরালে থাকা ‘শর্ত’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

বিরোধীদের প্রধান আপত্তির জায়গা

দেবাশিস ঘোষের রিপোর্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিরোধীদের আপত্তির মূল কারণ দুটি:

  • ডিলিমিটেশন বা সীমানা নির্ধারণ: বিলে বলা হয়েছে, নতুন আদমশুমারি এবং লোকসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্বিন্যাসের পরই ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হবে। বিরোধীদের আশঙ্কা, এর ফলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি (যেখানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সফল) আসন সংখ্যায় পিছিয়ে পড়বে এবং উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির পাল্লা ভারী হবে, যা পরোক্ষভাবে বিজেপিকে সুবিধা দেবে।

  • তৎক্ষণাৎ কার্যকর নয় কেন? রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের প্রশ্ন, যদি সরকার সত্যিই আন্তরিক হয়, তবে ২০২৬-এর ভোটেই কেন সংরক্ষণ চালু করা হচ্ছে না? কেন একে ২০২৯ বা তার পরের জন্য ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে?

সংসদীয় অঙ্ক: বিল পাশ করানো কি সম্ভব?

মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে গেলে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন, যার জন্য সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।

  • লোকসভার চিত্র: এনডিএ (NDA) সরকারের হাতে লোকসভায় যথেষ্ট শক্তি রয়েছে। অনেক বিরোধী দলও (যেমন তৃণমূল বা জেডিইউ) নীতিগতভাবে বিলের পক্ষে থাকায় লোকসভায় বাধা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

  • রাজ্যসভার চ্যালেঞ্জ: রাজ্যসভায় সংখ্যার খেলা কিছুটা কঠিন হলেও, নারী শক্তির মতো জনপ্রিয় ইস্যুতে কোনো দলই সরাসরি ‘না’ বলার ঝুঁকি নিতে চাইছে না। ফলে বিল পাশ হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা, তবে বিরোধীরা সংশোধনীর দাবিতে সরব হতে পারে।

বিজেপির অবস্থান

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কংগ্রেস এবং বিরোধীরা স্রেফ ভোটব্যাঙ্কের ভয়ে ঐতিহাসিক এই কাজে বাধা দিচ্ছে। মোদী সরকারের মতে, ডিলিমিটেশন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতার খাতিরেই একে বিলের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy